ভ্যাপসা গরমের মধ্যেই তৈরি হবে দানবীয় কিউমুলোনিম্বাস। ব্যাপক বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা জারী থাকবে। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের ঝড়বৃষ্টির জন্য কার্যকরী উত্তর রাজস্থান থেকে হরিয়ানা–উত্তরপ্রদেশ হয়ে বিহার পর্যন্ত বিস্তৃত মৌসুমী অক্ষরেখা রয়েছে ও উত্তর-পূর্ব ও সংলগ্ন মধ্য-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে, 4.5–7.6 কিমি উচ্চতায় একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে যার জেরে বায়ুমণ্ডলে ব্যাপকভাবে জলীয়বাষ্প পূর্ণ বায়ু ঢুকছে।
জুনের শেষ থেকে জুলাই এর প্রথম সপ্তাহে উত্তরবঙ্গোপসাগরীয় একটি নিম্নচাপ ক্ষেত্র সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে যার প্রত্যক্ষ প্রভাব ওড়িশা ও তৎসংলগ্ন রাজ্যের উপর পড়লেও তার পরোক্ষে প্রভাবে ও একটি গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের উপর সম্ভাব্য ঘূর্ণাবর্তের জেরে পশ্চিমবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। জুনের শেষ থেকে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহে ঝড়বৃষ্টির দারুন প্রভাব পরিলক্ষিত হবে। মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রাজ্যের বেশ কিছু অংশে।
আরও পড়ুনঃ ১ জুলাই ‘হাফ’, ৬ জুলাই ‘ফুল’ ছুটি রাজ্যে! নয়া নির্দেশিকা সরকারের
আগামী ১০ দিনের মিডিয়াম রেঞ্জ আবহাওয়া আপডেট।। ২৫ শে জুন-৫ ই জুলাই কেমন থাকবে আবহাওয়া?
উত্তরবঙ্গ (২৫ শে জুন-৫ ই জুলাই)
আগামী ১০ দিনে উত্তরবঙ্গে নিয়মিত বৃষ্টির সম্ভাবনা। সবজায়গায় সবদিন না হলেও আগামী ১০ দিনে প্রায়শই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা জারী থাকবে। কোন কোন দিন হালকা থেকে মাঝারি ও আবার কোনো কোনো দিন মাঝারি থেকে ভারী ও অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা।
২৫-২৭ শে জুন উত্তরবঙ্গের সবকটি জেলাতেই হলুদ ও কমলার সতর্কতা রয়েছে এই সময়সীমায় দার্জিলিং কালিম্পং জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার কোচবিহার জেলার দৈনিক ৭৬-১০০ শতাংশ এলাকায় জেলাপিছু গড়ে ২-৩ দিন ও মালদা উত্তর দিনাজপুর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার দৈনিক ৫০-৭৫ শতাংশ এলাকায় জেলা পিছু গড়ে ১-২ দিন ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা। বৃষ্টিপাতের ধরন হালকা থেকে মাঝারি কোন কোন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। বজ্রবিদ্যুৎ তুলনামূলকভাবে বেশি ও অস্থায়ী দমকা বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৫০-৬০ কিমি কিংবা তারও বেশি থাকতে পারে
২৮ শে জুন থেকে ৫ ই জুলাই এর মধ্যে ঝড়বৃষ্টির ব্যাপ্তি ও পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাড়বে হলুদ – কমলা ও লাল সতর্কতা রয়েছে। এই সময়সীমায় জলপাইগুড়ি আলিপুরদুয়ার দার্জিলিং কালিম্পং জেলার দৈনিক ৭৬-১০০ শতাংশ এলাকায় এ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে জেলা পিছু করে ৪ থেকে ৬ দিন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। মালদা ও দুই দিনাজপুর জেলার দৈনিক ৭৬-১০০ শতাংশ এলাকায় জেলাপিছু গড়ে ৩-৫ দিন ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা। বৃষ্টিপাতের ধরন হালকা থেকে মাঝারি কোন কোন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।আকাশ কোনো কোনো দিন থাকবে পরিস্কার রৌদ্রজ্জ্বল আবার কোনো কোনো দিন মেঘলা আংশিক মেঘলা। বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির মেঘ আকস্মিকভাবে তৈরী হবে ।
আরও পড়ুনঃ মল্লযুদ্ধে ফিরছে বাঙালি, বদলের সরকারে ফিরছে কলকাতার অতীত গৌরব
দক্ষিণবঙ্গ (২৫ শে জুন-৫ ই জুলাই)
আগামী ১০ দিনে দক্ষিনবঙ্গেও নিয়মিত ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা। সবজায়গায় সবদিন না হলেও আগামী ১০ দিনে প্রায়শই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা জারী থাকবে। কোন কোন দিন হালকা থেকে মাঝারি ও আবার কোনো কোনো দিন মাঝারি থেকে ভারী ও বৃষ্টির সম্ভাবনা।
২৫-২৭ শে জুন দক্ষিনবঙ্গের সবকটি জেলাতেই হলুদ সতর্কতা রয়েছে তবে এই সময়সীমায় ঝড়বৃষ্টির ব্যাপ্তি তুলনামূলকভাবে কম থাকবে এই সময়সীমায় দক্ষিনবঙ্গে মোটামুটি দৈনিক ২৫-৫০ শতাংশ এলাকায় জেলাপিছু গড়ে ১-২ দিন ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা জারী থাকবে বৃষ্টিপাতের ধরন হালকা থেকে মাঝারি কোন কোন দিন দুই এক জায়গায় অস্থায়ী ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা।
২৮ শে জুন থেকে ৫ ই জুলাই এর মধ্যে ঝড়বৃষ্টির ব্যাপ্তি ও পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বাড়বে হলুদ – কমলা সতর্কতা রয়েছে। দক্ষিনবঙ্গের দৈনিক ৭০-৯০ শতাংশ এলাকায় জেলাপিছু গড়ে ৫-৬ ঝড়বৃষ্টি হতে পারে বৃষ্টিপাতের ধরন হালকা থেকে মাঝারি কোন কোন দিন ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা। আকাশ কোনো কোনো দিন থাকবে পরিস্কার রৌদ্রজ্জ্বল আবার কোনো কোনো দিন মেঘলা আংশিক মেঘলা ।বজ্রবিদ্যুৎ সহ ঝড়বৃষ্টির মেঘ আকস্মিকভাবে তৈরী হবে ।বজ্রবিদ্যুৎ তুলনামূলকভাবে বেশি ও অস্থায়ী দমকা বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৫০-৬০ কিমি কিংবা তারও বেশি থাকতে পারে।
২৯শে জুন থেকে ১লা জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত তিনদিন সময়সীমার মধ্যে অর্থাৎ সোমবার, মঙ্গলবার ও বুধবার এই তিনদিন সময়সীমার মধ্যে উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গের দিকে শক্তিশালী মৌসুমী অক্ষরেখা নামতে শুরু করবে এবং এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। মৌসুমী অক্ষরেখা হিমালয় পাদদেশ থেকে নীচে নেমে আসা এবং বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ সৃষ্টির পক্রিয়া সক্রিয় হবার পর্যায়ে সমগ্র দক্ষিণবঙ্গে শক্তিশালী বজ্রগর্ভ ও বৃষ্টিবাহী মেঘ সৃষ্টি ও বর্ষা সক্রিয় হবার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। যার জন্য প্রদত্ত সময়সীমার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টি ও ভারীবৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। দেখা যেতে পারে বজ্রঝড় ও কিছু কিছু অঞ্চলে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎ। প্রদত্ত সময়সীমার মধ্যে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং জলমগ্নতা তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া, হাওড়া, কলকাতা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, দুই ২৪ পরগণা সহ সমগ্র দক্ষিণবঙ্গের বৃহৎ অঞ্চল জুড়ে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেখা যেতে পারে বজ্রঝঞ্ঝা।


