Monday, 29 June, 2026
29 June
HomeকলকাতাCOMRED: 'চোর' তৃনমূলের ভাগ্যে ডিমাস্ত্র, আর অপরদিকে খুদে কমরেডের সমাজ বদলের চিরস্থায়ী...

COMRED: ‘চোর’ তৃনমূলের ভাগ্যে ডিমাস্ত্র, আর অপরদিকে খুদে কমরেডের সমাজ বদলের চিরস্থায়ী স্বপ্ন!

মাত্র ২ বছর বয়স থেকেই অদ্ভিতা শামিল হয়েছে হাজার হাজার হতভাগ্যের ভাগ্য ফেরানোর লড়াইয়ে!

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

এ যেন বংশ পরম্পরায় রক্তে প্রবহমান শ্রেণিহীন সমাজের স্বপ্ন! আর সেই স্বপ্ন পূরণে ছোট্ট থেকে আন্তরিক প্রচেষ্টা। আজকের হিংসা, প্রতিহিংসা, কলুষিত রাজনীতির বাইরে দাঁড়িয়ে যে কমরেডরা আজও সমাজের জন্য কাজ করে চলেছেন নিশ্চুপে, তার মধ্যে একজনের নাম নিশ্চিতভাবে অদ্ভিতা মুখোপাধ্যায়। মাত্র ২ বছর বয়স থেকেই অদ্ভিতা শামিল হয়েছে হাজার হাজার হতভাগ্যের ভাগ্য ফেরানোর লড়াইয়ে! শুনে অবাক হচ্ছেন? তা হওয়ার মতোই ঘটনা। নিজের জন্মদিনে পাওয়া সমস্ত অর্থ উচ্ছেদ হওয়া হকারদের জন্য দান করে দিল ‘খুদে কমরেড’। সেই ছবি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছেন সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্ত। শুক্রবার মায়ের সঙ্গে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিএমের সদর দপ্তরে গিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর হাতে অর্থ তুলে দিল সে। এমন ‘বড়’ মানুষকে দেখে অবাক খোদ বিমান বসুও! 

আরও পড়ুনঃ স্বপ্নভঙ্গ দঃআফ্রিকার, নেদারল্যান্ড অথবা মরক্কোর সামনে কানাডা

গত ২১ মে বাগবাজারের বাসিন্দা অদ্ভিতা দু’বছরে পা রেখেছে। জন্মদিন উপলক্ষে বাড়ির সদস্যদের ও শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে নানা উপহার পেয়েছে। তারই মধ্যে পাওয়া টাকা পুরোটাই সে তুলে দিয়েছে সিপিএমকে, সম্প্রতি উচ্ছেদ হওয়া হকারদের সাহায্যের জন্য। যদিও এ বিষয়ে খুদে অদ্ভিতার চেয়েও বেশি আগ্রহী তার মা-বাবা। দু’জনই এসএফআই থেকে দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই সূত্রে এমন সমাজসেবামূলক কাজে যুক্ত।

অদ্ভিতার মা সীমা সাহা জানিয়েছেন, শুক্রবার বিকেল ৩টে নাগাদ তিনি মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন মুজাফ্ফর আহমেদ ভবনে। আগে থেকে বিমান বসুর সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়ে রেখেছিলেন। সেখানে পৌঁছনোর পর বিমান বসু সাক্ষাৎপ্রার্থীকে দেখে অবাক হয়ে যান! মাত্র ২ বছরের একজন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছে, তা যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না। যদিও অদ্ভিতার যাওয়ার কারণ জেনে ভারী খুশি হন এবং প্রায় আধঘণ্টা ধরে ‘খুদে কমরেডে’র সঙ্গে গল্প করেন তিনি। একটি চকোলেট দেন উপহার হিসেবে। কিছুক্ষণের জন্য যেন ‘সমবয়সী’ হয়ে ওঠেন ৮৬ বছরের বিমানবাবু আর ২ বছরের অদ্ভিতা। তাকে আশীর্বাদ করে বিমান বসু বলেছেন, ‘‘ভালো করে পড়াশোনা করো।”

আরও পড়ুনঃ অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে মেয়েদের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় ভারতের

অদ্ভিতার পরিবার চেয়েছিল, পার্টির লাইব্রেরি থেকে মেয়ের জন্য একটি বই, বিমান বসুর লিখে দেওয়া। কিন্তু ২ বছরের শিশুর জন্য তেমন যুতসই কোনও বই নেই। তাই বিমানবাবুর পরামর্শ, যোগীন্দ্রনাথ সরকার রচিত ছোটদের বিখ্যাত বই ‘হাসিখুশি’ তাকে কিনে দেওয়ার। নিজেদের মতো কি মেয়েকে সিপিএমের আদর্শে অনুপ্রাণিত করতে চান? এই প্রশ্নের জবাবে অদ্ভিতার মা-বাবার সংক্ষিপ্ত বক্তব্য, ‘‘ওসব কিছু নয়। বরাবর আমাদের বিশেষ বিশেষ দিনগুলোয় পার্টি অফিস বা সিপিএমের শিবিরে কিছু না কিছু দিই। এবার মেয়ের ২ বছরের জন্মদিনে পাওয়া অর্থ পার্টিকে দিলাম। দল তো উচ্ছেদ হওয়া হকারদের হয়ে লড়ছে। এই অর্থ যাতে কিছুটা কাজে লাগে।” উদ্দেশ্য যাই হোক, অদ্ভিতার এই উপহারই বুঝিয়ে দেয়, এ দলে হার-জিতের উর্ধ্বে উঠে সমাজ বদলের স্বপ্নটাই চিরস্থায়ী।

 

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন