বারুইপুর কাণ্ডে নাবালিকার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে ভয়াবহ নৃশংসতার তথ্য উঠে এল। যখন নাবালিকাকে বস্তাবন্দী করে পুকুরে ফেলা দেওয়া হয়েছিল, তখন সে জীবিত ছিল বলে মনে করছে পুলিশ। এক উচ্চপদস্থ পুলিশ অফিসার জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানান গিয়েছে যে নাবালিকার গোপনাঙ্গে একাধিক ক্ষত আছে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঁচড় এবং কামড়ের দাগ মিলেছে। ভারী কোনও বস্তু নিয়ে নাবালিকার মাথায় মারা হয়েছিল বা শক্ত কোনও জায়গায় ঠুকে দেওয়া হয়েছিল মাথা। ফুসফুস এবং পাকস্থলীতে জল পাওয়া গিয়েছে। যা থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে যখন নাবালিকাকে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, তখন তার দেহে প্রাণ ছিল।
আরও পরুনঃ পার্থ ভৌমিকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ! “মাঝরাতে গর্ভগৃহ খুলিয়ে জন্মদিন পালন!”
আর সেই বিষয়টি জানার পরে শিউরে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুকুর থেকে যখন বস্তা উদ্ধার করা হয়েছিল, তখন সেটি তার দিয়ে বাঁধা রাখা ছিল। ওই বস্তা থেকে বের হয়ে আসার জন্য নিশ্চয়ই নাবালিকা শেষ চেষ্টা করেছিল বলে আক্ষেপ ঝরে পড়েছে এক স্থানীয় বাসিন্দাদের গলা থেকে।
সূত্রের খবর, জলে ডুবে শ্বাসরোধ এবং মাথায় আঘাতের জেরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের জেরে মৃত্যু হয়েছে নাবালিকার। এক পুলিশ কর্তা জানিয়েছেন, এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আছে তদন্ত। হাতে যা যা প্রমাণ এসেছে, সেটার ভিত্তিতে সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের সময় যা যা উদ্ধার করা হয়েছে, সেগুলির সঙ্গে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট; সিসিটিভি ফুটেজের মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ অফিসার।
আরও পড়ুনঃ দোষীদের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট’ দেওয়ার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর
পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকার যে সিসিটিভি ফুটেজ হাতে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে যে চারজন ব্যক্তি নাবালিকাকে নিয়ে যাচ্ছে। সেই ফুটেজ ভালো করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আপাতত যা ইঙ্গিত মিলছে, তাতে পূর্বপরিকল্পিত ঘটনা হতে পারেও বলে আশঙ্কাপ্রকাশ করছে পুলিশ। পুরো বিষয়টি জানার জন্য ধৃতদের জেরাও করা হচ্ছে। গ্রেফতার করা হয়েছে প্রভাস মণ্ডল, আনন্দ সর্দার-সহ তিনজনকে। তবে তাদের বয়ানে বিস্তর অসংগতি মিলেছে। বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে বলেও সূত্রের খবর।
তারইমধ্যে বারুইপুরের ঘটনায় বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদ চলছে। সোমবার সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট এক নম্বরে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এয়ারপোর্ট নাগরিক মঞ্চের সদস্য তুলিকা অধিকারী বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট ১ নম্বরে এয়ারপোর্ট নাগরিক মঞ্চের উদ্যোগে বারুইপুরের মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিবাদের মূল দাবি ছিল – দোষীদের দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ। লক্ষ কণ্ঠে একটাই স্বর জাস্টিস ফর সূর্যপুর, উই ওয়ান্ট জাস্টিস। উই ডিমান্ড জাস্টিস।’


