তোলাবাজির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী তথা বিধাননগর পুরসভার মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। তাঁদের বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য আগেই তৈরি হয়েছে SIT। এবার দেবরাজের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ দু’জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরেই এরা মেয়র পারিষদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এক কথায় বলাই চলে ছায়া সঙ্গী। ফলত, তাঁদের গ্রেফতারিতে দেবরাজ যে আরও বিপাকে পড়তে চলেছে তা বলাই যায়।
জানা যাচ্ছে, দেবরাজ চক্রবর্তী ও কাউন্সিলর সমরেশ চক্রবর্তী ঘনিষ্ঠ দুই তৃণমূল কর্মী অমর নস্কর ও কল্যাণ মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছে বাগুইআটি থানার পুলিশ। আজ ধৃতদের আদালতে তোলা হবে। তাঁদের বিরুদ্ধে বলপূর্বক জমি দখল,প্রাণনাশের হুমকি ভীতি প্রদর্শন, প্রতারণা,তোলাবাজি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
এলাকার এক জনৈক ব্যক্তি শুভজিৎ নস্করের অভিযোগ, রঘুনাথপুর এলাকায় মোট ৩৩ কাঠা জমি ছিল তাঁর। ২০২২ সালে প্রোমোটারের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট জমিতে একটি আবাসন নির্মাণ করবেন বলে স্থির করেন। এগ্রিমেন্ট হয়ে যাওয়ার পরেই অমর নস্কর ওরফে খোকন অমিত চক্রবর্তী ওরফে ননী, কল্যাণ মুখোপাধ্যায় সেই জমিতে উপস্থিত হয়। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ভয়-ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধর করা হয় তাঁকে।
অভিযোগ, কোনমতে পালিয়ে প্রাণে বাচেন তিনি। পরবর্তীতে থানায় এসে অভিযোগ করলে কোন ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। উল্টে অভিযোগকারী শুভজিৎ নস্করের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের হয়। এরপর ক্রমাগত আসতে থাকে হুমকি। অভিযোগ, শুভজিৎকে বলা হত, এলাকায় নির্মাণ করতে গেলে নির্মাণের সমস্ত সামগ্রী নিতে হবে কল্যাণদের কাছ থেকে। স্কোয়ার ফিট হিসেবে দিতে হবে টাকা। আর যদি তাদের কথা না মানা হয় তাহলে বিভিন্ন ফৌজদারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরে শুভজিৎ নস্কর গতকাল রাত দশটায় বাগুইহাটি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে দেবরাজ চক্রবর্তী, সমরেশ চক্রবর্তী, অমর নস্কর অমিত চক্রবর্তী এবং কল্যাণ মুখোপাধ্যায়দের বিরুদ্ধে। তারপরই তদন্তে নেমে পুলিশ অমিত ও কল্যাণকে গ্রেফতার।


