২০০৪ সালের ৫ আগস্ট রাতের অন্ধকারে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনার জীবনের সেই অধ্যায় আজও স্মৃতিতে আঁকা। তখন ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের জেরে তিনি বাধ্য হয়েছিলেন দেশ ত্যাগ করতে। দীর্ঘদিন পর, সেই কঠিন সময় পেরিয়ে, শেখ হাসিনা আবারো দেশের মাটিতে ফিরার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন।
আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় বাংলাদেশ সরকার
৭৮ বছর বয়সী এই আওয়ামী লীগ নেতা জানালেন, ডিসেম্বর মাসে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। যদিও দেশের সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, তবুও তিনি তাতে ভয় পাননি। তিনি বলেছেন, “দেশে ফিরলে হয়তো গ্রেফতার করা হবে, হয়তো প্রাণহানি ঘটানো হবে, কিন্তু আমি যেতে বাধ্য। আমার দলের নেতা-কর্মীরা দমন-পীড়নের শিকার হচ্ছেন এবং আমি চাই আমার মৃত্যু যেন আমার নিজের মাটিতে হয়, যেখানে আমার বাবা-মা শায়িত আছেন।”
শেখ হাসিনা আরো জানান, তিনি এখনো তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে সরকারকে কিছু জানাননি, কারণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার এবং ন্যায়বিচারের বিষয়গুলো গোপন আলোচনার বিষয় নয়। তিনি গ্রেফতার হওয়ার ভয়ে চিন্তিত নন, কারণ তিনি আগেও বহুবার কারাবরণ করেছেন। এইসব বাধা সত্ত্বেও তিনি আওয়ামী লীগকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে অনলাইনে বৈঠক করেছেন।
আরও পড়ুনঃ ‘আসিম মুনির মুর্দাবাদ’, গর্জন কোয়েট্টায়!
শেখ হাসিনা বলেন, “কোনও সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে ভুল-ত্রুটি হওয়া স্বাভাবিক। তবে সরকারের বিচার করার অধিকার জনগণের। আমি সেই বিচার জনগণের ওপরই ছেড়ে দিলাম। হয়তো তারা আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেছে, হয়তো আমি নির্বাচনে লড়তে পারব না, কিন্তু আওয়ামী লীগকে কেন স্থগিত করা হবে? যদি আমরা খারাপ কিছু করে থাকি, তাহলে জনগণই তার সিদ্ধান্ত নিক।”
শেখ হাসিনার এই সাহসী ঘোষণা এবং দেশের প্রতি তার গভীর ভালোবাসা অনেকের হৃদয় স্পর্শ করবে। দেশের জন্য তার এই অটল সংকল্প এবং দমন-পীড়নের মুখেও দেশের মাটিতে ফিরে যাওয়ার দৃঢ়তা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।


