বাঁকুড়ার মেজিয়ায় ভারী শিল্পের নতুন অধ্যায়: শ্যাম স্টিল কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন
হুগলির ডানকুনি শিল্পাঞ্চলের পর এবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় ভারী শিল্পের সূচনা হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এর উপস্থিতিতে মেজিয়ায় শ্যাম স্টিলের নতুন ইউনিটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষের আশা, এই কারখানা চালু হলে অন্তত ১০ হাজার লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং এর ফলে আরও অনেক অনুসারী শিল্প গড়ে উঠবে।
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা বদলের ছাপ প্রশাসনের অন্দরেও! বদলে গেল উত্তরকন্যার রং
এই আনন্দঘন মুহূর্তে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের স্ত্রী মীরা ভট্টাচার্য বলেন, এটি তাঁর স্বামীর দীর্ঘদিনের স্বপ্নের বাস্তবায়ন। তিনি বলেন, “বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য দীর্ঘ সাত বছর অসুস্থ থাকার পরও রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য সবরকম চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ইচ্ছে ছিল রাজ্যের সন্তানরা পরবর্তী প্রজন্মে অন্য রাজ্যে না গিয়ে এখানেই সফলতা অর্জন করুক। এই ভাবনা থেকেই সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম ও জিন্দালদের স্টিল কারখানার স্বপ্ন দেখেছিলেন। যদিও শেষ পর্যন্ত তিনি নিজে তা করতে পারেননি।”
মীরা ভট্টাচার্য আরও বলেন, “কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, তিনি এই রাজ্যে শিল্প ফিরিয়ে আনবেন এবং নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যত সুরক্ষিত করবেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তিনি এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সক্ষম হবেন।”
শুভেন্দু অধিকারীর তীব্র আক্রমণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীতির বিরুদ্ধে:
শ্যাম স্টিল কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের সময় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে অনেক সময় ছিল, একবার এলে কারখানাটি নিজে দেখে যেতেন। আমি চাইলে তাঁকে সরকারি হেলিকপ্টারে নিয়ে আসতাম। তিনি বলতেন, গুজরাত কিংবা উত্তরপ্রদেশের মত শিল্প রাজ্যে আসতে দেবেন না। কিন্তু যখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তখন বাংলায় শিল্পপতিদের ফিরে আসার পথ খুলেছে। এই সরকারের কারণে বাংলা ও বাঙালিরা বেঁচে গেছে।”
আরও পড়ুনঃ শিলিগুড়ি থেকে কলকাতা, রবিবার পর্যন্ত মেগা প্ল্যানের ‘শাহি সফর’
নিরাপত্তার পুনর্বহাল ও মীরা ভট্টাচার্যের কৃতজ্ঞতা:
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের বাড়িতে নিরাপত্তারক্ষীর পুনর্বহাল হয়েছে। মীরা ভট্টাচার্য বলেন, “আগের সরকারের সময় নিরাপত্তারক্ষীরা তুলে নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এখন তা ফের দেওয়া হয়েছে। আমি আন্তরিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানাই।”
এই শিল্পায়ন প্রকল্প এবং প্রশাসনিক উদ্যোগগুলি পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা রাজ্যের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করবে।


