কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তিনদিনের জন্য বাংলায় বিশেষ সফরে আসছেন। শুক্রবার রাতে শিলিগুড়িতে পৌঁছানোর মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সফর রবিবার পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা, নতুন ফৌজদারি আইন বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক নানা বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবেন। এছাড়াও, উত্তরবঙ্গ ও কলকাতায় বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতেও তার উপস্থিতি থাকবে।
অমিত শাহ শিলিগুড়িতে এসে বাংলায় তাঁর প্রথম বিস্তৃত সফর শুরু করবেন। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর এটি তাঁর প্রথম এই ধরনের সফর। শিলিগুড়িতে তিনি সীমান্ত পরিস্থিতি, জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তকরণ এবং রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক পর্যালোচনা করবেন।
শনিবার সকাল:
তিনি শিলিগুড়ির সীমা চৌকি এবং জুমাগাছে অবস্থিত বিএসএফ-এর ১৮ নম্বর ব্যাটালিয়নে অনুষ্ঠিত ‘প্রহরী সম্মেলন’-এ অংশ নেবেন। সেখানে বিএসএফ-এর আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং বাহিনীর নতুন একাধিক প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
সীমান্ত নিরাপত্তা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক:
শিলিগুড়িতে সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন অমিত শাহ। এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন:
- কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন
- আইবি প্রধান মহেশ দীক্ষিত
- পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
- বিএসএফ মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার
বৈঠকে সীমান্ত নিরাপত্তা, অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং অন্যান্য কৌশলগত বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
নতুন তিনটি ফৌজদারি আইন বাস্তবায়ন:
অমিত শাহ রাজ্যে নতুন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি আইন—
- ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS), ২০২৩
- ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (BNSS), ২০২৩
- ভারতীয় সাক্ষ্য অধিনিয়ম (BSA), ২০২৩
সম্পূর্ণ কার্যকর করার অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক করবেন। পাশাপাশি, জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তকরণ ও প্রশাসনিক কাজের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করবেন।
আরও পড়ুনঃ ক্ষমতা বদলের ছাপ প্রশাসনের অন্দরেও! বদলে গেল উত্তরকন্যার রং
শনিবার সন্ধ্যা:
কলকাতায় পৌঁছে তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
রবিবার:
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণের পাশাপাশি কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে দেশের প্রথম ‘মিউজিয়াম অব ওয়ার্ডস’-এর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করবেন। একই দিনে ভার্চুয়ালি ধুলাগড়ে আমূলের নতুন দই উৎপাদন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। সকল কর্মসূচি শেষ করে বিকেলে দিল্লি ফেরার জন্য রওনা হবেন।
এই সফরের মাধ্যমে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা বিষয়গুলো নিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।


