কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
সিকিমের নামচি জেলার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণাধীন ‘এডিআইটি-৩’ (ADIT-III) সুড়ঙ্গের মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৫ জনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে নিহতদের মধ্যে মাত্র ১১ জনের নাম পরিচয় জানা গিয়েছে। দুর্ঘটনায় আটকে থাকা বাকি শ্রমিকদের উদ্ধারে গভীর রাত পর্যন্ত তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
উদ্ধারকাজ আরও জোরদার করতে আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ECL) থেকে একটি দ্বিতীয় বিশেষজ্ঞ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযানে যোগ দিয়েছে। দুই দলের যৌথ প্রচেষ্টায় মধ্যরাত পর্যন্ত আরও কয়েকটি দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
সিকিম রাজ্য সরকার ও জেলা প্রশাসন দুর্ঘটনার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন
সিকিম সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর ২২ জুলাই একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজ্য পুলিশের আইজিপি তাশি ওয়াংইয়াল। সদস্যরা হলেন:
- খনি ও ভূতত্ত্ব বিভাগের প্রধান নির্দেশক ফিগু শেরিং ভুটিয়া
- একই বিভাগের অতিরিক্ত নির্দেশক কেশর লুইটেল
- সিকিম পুলিশের সিআইডি বিভাগের ডিআইজি তেনজিং লোডেন লেপচা (সদস্য সচিব)
কমিটি ২০ জুলাই তিস্তা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে বিস্ফোরণ ও বিষাক্ত মিথেন গ্যাস ছড়ানোর কারণ অনুসন্ধান করবে। তারা খতিয়ে দেখবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি, গ্যাসের উৎস, যন্ত্রপাতির অবস্থা এবং নিরাপত্তা বিধি মেনে চলা হয়েছে কিনা।


আরও পড়ুনঃ শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে সংসদ চত্বরে বিক্ষোভ, স্লোগান বিরোধীদের, পাল্টা বিক্ষোভে এনডিএ সাংসদেরাও
তদন্তে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- ১৯৫২ সালের খনি আইন (Mines Act, 1952)
- টানেল সেফটি গাইডলাইন ও ২০০৮ সালের বিস্ফোরক বিধি
- বায়ু চলাচল ব্যবস্থা, গ্যাস সনাক্তকরণ সেন্সর ও জরুরি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কার্যকারিতা
সরকারি নির্দেশনায় কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ও সুপারিশ জমা দিতে বলা হয়েছে।
সাহায্য ও সমর্থন
রাজ্য সরকার ও স্থানীয় প্রশাসন নিহত শ্রমিকদের পরিবার ও দুর্ঘটনাকবলিতদের সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে।


