কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়ি:
দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক প্রকল্প ত্বরান্বিত করতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের বার্তা দিলেন রাজ্য স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। বার বারবার বৈঠকে একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি রুখতে এবং কাজের গতি বাড়াতে প্রতিটি বড় প্রকল্পের জন্য পৃথক ‘নোডাল অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুনঃ আরও সোজা শিয়ালদহে যাতায়াত; রেলের বড় পদক্ষেপ
প্রকল্প ভিত্তিক নোডাল অফিসার ও প্রধান লক্ষ্য: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, কাজের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা এবং পরবর্তী বৈঠকে রিপোর্ট পেশ করার দায়িত্ব থাকবে এই নোডাল অফিসারদের ওপর। মূলত যেসব বড় প্রজেক্টের তদারকি তাঁরা করবেন:
-
ক্যানসার কেয়ার ইউনিট: আগামী ৮-৯ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে কাজ শেষ করে চালু করার লক্ষ্য।
-
৫০০ শয্যার ক্রিটিক্যাল কেয়ার ব্লক: আগামী ১ বছরের মধ্যে পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা।
-
সুপার স্পেশালিটি ব্লক: কয়েকটি বিভাগ চালু হলেও বাকি বিভাগগুলি আগামী দেড় থেকে দু’বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে কার্ডিয়াক ও ক্যাথল্যাব পরিষেবা: উত্তরবঙ্গজুড়ে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসার অভাব নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল। প্রতিমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, দ্রুত ক্যাথল্যাব চালুকরণ এবং কার্ডিয়াক সার্জারি শুরু করার বিষয়ে রাজ্য স্বাস্থ্য ভবনের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে। নোডাল অফিসাররাই চিকিৎসক ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে পরিষেবা শুরুর ব্যবস্থা করবেন।
ভাঙা সিলিং মেরামত ও পুরনিগমের সঙ্গে চুক্তি: হাসপাতালের সুপার স্পেশালিটি ভবনের খসে পড়া ফলস সিলিং নিয়ে ক্ষোভের মুখে পড়ে প্রশাসন। এ দিন জানানো হয়, সিভিল ও ইলেকট্রিক্যাল কাজের টেন্ডার দ্রুত শেষ করে আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ করা হবে।
পরিচ্ছন্নতার স্বার্থে শিলিগুড়ি পুরনিগমের সঙ্গে বার্ষিক সাড়ে সাত লক্ষ টাকার চুক্তি করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকেই হাসপাতাল চত্বর থেকে নিয়মিত জঞ্জাল সাফাই শুরু হবে বলে নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রী।
হাসপাতালের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় ‘আমূল পরিবর্তন’ আনার এই বার্তা কিছুটা স্বস্তি দিলেও, ঘোষিত সময়সীমার মধ্যে আদৌ প্রজেক্টগুলি বাস্তবায়িত হয় কি না এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ হয় কি না—সেদিকেই এখন নজর উত্তরবঙ্গবাসীর।


