পুনে:
নিট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকে গত ২০ জুলাই দিল্লির রাজপথে যে অভূতপূর্ব আন্দোলন ও সংসদ অভিযানের ঘটনা ঘটেছিল, তার জল গড়িয়েছে রাজ্য ও কেন্দ্র রাজনীতির বহু গভীরে। সিজেপি-র টানা গণবিক্ষোভ ও কঠোর অবস্থান সামাল দিতে বাধ্য হয়ে পদত্যাগ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। দিল্লিতে আন্দোলনের সময় সংঘর্ষ ও সম্প্রতি সিজেপি-র প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে ওঠা একাংশের অশালীন মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই আবহেই পুনেতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের যুবসমাজ ও সার্বিক স্বাধীনতার সংজ্ঞা নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত ডোভাল।
আরও পড়ুনঃ এবার বাংলায় ‘অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড’; দুই এসটিএফ সংযুক্তিকরণের পথে নবান্ন
‘লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার’ প্রদানের মঞ্চ থেকে বার্তা
পুনেতে ঐতিহাসিক ‘লোকমান্য তিলক জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ (Lokmanya Tilak National Award 2026) প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অজিত ডোভাল লোকমান্য বাল গঙ্গাধর তিলকের জীবনের ত্যাগ ও সংগ্রামের উদাহরণ তুলে ধরেন।
তিনি বলেন:
“লোকমান্য তিলকের জীবন ও তাঁর চরিত্রের গভীরতা যথার্থভাবে অনুধাবন করতে হলে সেই যুগের প্রেক্ষাপট, সীমাবদ্ধতা এবং তৎকালীন শোচনীয় পরিস্থিতির কথা বুঝতে হবে—এমন সব বাস্তবতা যা পুরোপুরি কল্পনা করা আমাদের, এবং বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য বেশ কঠিন।”
আরও পড়ুনঃ নাশকতার প্যাটার্ন বদলাচ্ছে সন্ত্রাসবাদীরা? সন্ত্রাসবাদী নাশকতার নতুন ছক প্রকাশ্যে
স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ ও যুবসমাজের দায়িত্ব
সাম্প্রতিক ছাত্র আন্দোলন এবং সিজেপির মঞ্চ থেকে ওঠা একাধিক বিতর্কের পরোক্ষ রেশ টেনে অজিত ডোভাল স্পষ্ট করেন যে উশৃঙ্খলতা বা নিজের যা ইচ্ছা তা করাই স্বাধীনতার আসল উদ্দেশ্য নয়।
-
স্বাধীনতার ভুল ব্যাখ্যা নয়: জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মতে, আজকের তরুণ প্রজন্ম হয়তো ভাবতে পারে ভারত সবসময়ই এমন সুস্থিত অবস্থায় ছিল। তারা স্বাধীনতা বলতে কেবল ‘নিজের ইচ্ছামতো যা খুশি তা করার অধিকার’ বলে ভুল বুঝে বসতে পারে, কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জনের পেছনে ছিল অগুনতি মানুষের আত্মত্যাগ ও শৃঙ্খলা।
-
সংীর্ণ স্বার্থ বিসর্জন: ডোভাল যুবসমাজকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের উচিত নিজেদের সম্পূর্ণরূপে জাতির সেবায় উৎসর্গ করা। ব্যক্তিগত ক্ষোভ বা সংকীর্ণ লক্ষ্যকে একপাশে সরিয়ে রেখে সর্বদা “জাতীয় স্বার্থকে” সর্বাগ্রে স্থান দেওয়া উচিত। ছোটখাটো অসন্তোষ আপাতত অপেক্ষমাণ থাকলেও দেশ গঠনের মূল লক্ষ্য যেন ব্যাহত না হয়।
-
ইতিহাসের দুর্লভ সুযোগ: তিনি মনে করিয়ে দেন, বর্তমান সময়ে ভারত এক ঐতিহাসিক ও অভূতপূর্ব সুযোগের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। এই সুবর্ণ সুযোগকে হেলায় নষ্ট না করে তরুণরা যেন আত্মনিবেদনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে ভারতের এক নতুন অধ্যায় রচনা করে।
কেন্দ্রীয় রাজনীতি ও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের এই উত্তাল সময়ে অজিত ডোভালের দেওয়া এই বক্তব্য দেশের প্রশাসনিক ও চিন্তাশীল মহলে এক বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।


