বিশেষ প্রতিনিধি:
পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে মসনদে বসার পর থেকেই সরকারের দিকে ধেয়ে আসছে একের পর এক ইস্যু। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী চিনির মূল্যবৃদ্ধি, ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র অর্থ বন্টন নিয়ে অসন্তোষ এবং বারুইপুরের মতো ঘটনার জেরে সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছে বিরোধীরা। সোশাল মিডিয়া থেকে রাজপথ—সুর চড়াচ্ছে বাম ও অন্যান্য বিরোধী শিবির। সিপিআই(এম)-এর নেতাকর্মীরা ২০৩১ সালের আগেই পুনরুত্থানের স্বপ্ন দেখতে শুরু করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে এই প্রারম্ভিক অস্থিরতা শুভেন্দু সরকারের দীর্ঘ মেয়াদেরই ইঙ্গিত হতে পারে। ২০৩১ কিংবা তার আগেই সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন বাম নেতাকর্মীরা। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
আরও পড়ুনঃ তহবিলের ঘাটতি! EPF পেনশন ১০০০/- টাকা থেকে ৭৫০০/- টাকা বাড়ছেনা কেন? অসন্তুষ্ট পেনশেনররা
২০১১-র মমতা বনাম ২০১৪-র মোদী: ঐতিহাসিক তুলনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা শুভেন্দু সরকারের এই সূচনালগ্নকে ২০১১ সালের তৃণমূল কংগ্রেসের পরিবর্তনের সঙ্গে মেলাতে নারাজ; বরং তাঁরা এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন ২০১৪ সালে কেন্দ্র সরকারের সূচনার সঙ্গে:
-
২০১১-র পরিস্থিতি: ২০১১ সালের মে মাসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই একাধিক বিতর্ক ও সারদা-নারদা বা তোলাবাজির মতো দুর্নীতির অভিযোগে ঘিরে ধরেছিল তৃণমূলকে। তা সত্ত্বেও টানা তিন বার ক্ষমতায় টিকে থেকেছে তারা।
-
২০১৪-র মোদী সরকারের মডেল: ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দাদরি কাণ্ড, রোহিত ভেমুলার মৃত্যু, ‘পুরস্কার ওয়াপসি’ আন্দোলন এবং আমির খানের ‘অসহিষ্ণুতা’ মন্তব্যের মতো তীব্র জাতীয় সমালোচনার মুখে পড়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু শুরুর সেই বড়সড় ধাক্কা ও বিতর্ক সামলে নিয়ে নিজেদের সংগঠনকে আরও মজবুত করে বিজেপি এবং পরবর্তীতে ২০১৯ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনেও সাফল্য ধরে রাখে।
আরও পড়ুনঃ এবার নতুন কোপ, ক্যাম্পা কোলার ১০ টাকার বোতলেও কোপ; ‘শ্রিঙ্কফ্লেশন’-এর দৌড়ে এবার রিলায়েন্স
বিশ্লেষকদের মতামত: প্রাথমিক চাপ কেন সুবিধাজনক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার গঠনের শুরুতেই বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলে শাসন ব্যবস্থার ত্রুটি-বিচ্যুতি এবং সাংগঠনিক ফাটলগুলি দ্রুত দৃশ্যমান হয়। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের ক্ষেত্রেও এই প্রাথমিক চাপ ও বিরোধীদের সুর চড়ানো আখেরে দলকে নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে সংগঠনকে শক্তপোক্ত করতে সাহায্য করবে। ফলে সূচনার এই রাজনৈতিক অস্থিরতা সরকারকে দুর্বল করার বদলে দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্বের ভিত গড়ে দিতে পারে বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল।


