বিশেষ রাজনৈতিক প্রতিবেদন, কলকাতা:
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় কলকাতা পুরআইন সংশোধনের মাধ্যমে কলকাতা পৌরসভার মোট ওয়ার্ড বা আসন সংখ্যা ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯ করা হয়েছে। পুনর্বিন্যাস (Delimitation) ও আসন সংখ্যা বৃদ্ধির পর আসন্ন কলকাতা পৌরসভা নির্বাচন (KMC Election) ঘিরে রাজনৈতিক দলগুলির লড়াই এক নতুন মাত্রা পেয়েছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনের ডেটা, ভোটদানের প্যাটার্ন, ওয়ার্ডের জনমিতি (Demographics) এবং সামাজিক মাধ্যমে নাগরিকদের অনুভূতি (Sentiment Analysis) বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেল কী ধরনের সম্ভাবনা নির্দেশ করছে? বিভিন্ন ডেটা সেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি AI-এর সম্ভাব্য পরিসংখ্যানমূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।
(উল্লেখ্য: এটি কোনো চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফল নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও ডিজিটাল ট্রেন্ড ডেটার ওপর ভিত্তি করে তৈরি একটি সম্ভাবনাভিত্তিক পূর্বাভাস।)
আরও পড়ুনঃ আবারও দুঃসংবাদ! আগামী মাস থেকেই পকেটে টান; দৈনন্দিন জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা
১. সম্ভাব্য জয়ী দল: কার দিকে পাল্লা ভারী?
২০৯টি আসনের বর্ধিত সীমানায় সরকার গড়ার জন্য প্রয়োজন অন্তত ১০৫টি আসন (সংখ্যাগরিষ্ঠতা)। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা মডেল ও নাগরিক ট্রেন্ড বিশ্লেষণ অনুযায়ী:
-
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC): শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঐতিহ্যগত ভোটার ভিত্তি এবং তৃণমূল স্তরের শক্তিশালী সংগঠনের কারণে তৃণমূল কংগ্রেস এখনও বড় লড়াইয়ে রয়েছে। তবে নতুন সীমানা পুনর্নির্ধারণের ফলে বেশ কিছু বড় ওয়ার্ড ভেঙে ছোট করায় ভোটের সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। AI ডেটা প্রজেকশন অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ৯৫ থেকে ১১৫টি আসন লাভ করার সম্ভাবনা ধরে রেখেছে, যা বোর্ড গঠনের ম্যাজিক ফিগারের কাছাকাছি বা সামান্য উপরে।
-
ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP): শহরের বাণিজ্যিক এলাকা, উত্তর ও মধ্য কলকাতার বড় অংশ এবং নতুন যুক্ত হওয়া কিছু ব্লকে বিজেপির উত্থান পরিলক্ষিত হচ্ছে। AI সেন্টিমেন্ট অ্যানালিসিস ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিজেপি তাদের আসন সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে ৭০ থেকে ৯০টি আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারে।
২. বিরোধী আসনে বসবে কে?
AI সেন্টিমেন্ট ও সাম্প্রতিক ভোট শতাংশের ধারা অনুযায়ী:
-
প্রধান বিরোধী দল হিসেবে বিজেপি: ২০৯ আসনের নতুন বিন্যাসে বিজেপি-র প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার অথবা শাসকদলের কড়া প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। উত্তর কলকাতা, মধ্য কলকাতা ও ভবানীপুর-রাশবিহারী সংলগ্ন নির্দিষ্ট কিছু পকেটে বিজেপির ট্রেন্ড বেশ শক্তিশালী।
-
বাম-কংগ্রেস ও অন্যান্য: বাম ফ্রন্ট ও কংগ্রেস জোট দক্ষিণ কলকাতা, যাদবপুর ও কিছু ঐতিহ্যবাহী বুদ্ধিজীবী প্রধান ওয়ার্ডে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে পারে। AI প্রজেকশন অনুযায়ী, তাদের ঝুলিতে ৮ থেকে ১৫টি আসন যেতে পারে। এ ছাড়া নির্দল ও অন্যান্য প্রার্থীরা ৩ থেকে ৭টি আসনে জয়ী বা নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারেন।
৩. অঞ্চল ও ২০৯ আসনভিত্তিক সম্ভাব্য প্রজেকশন
পুনর্বিন্যাসের পর ২০৯টি ওয়ার্ডের অঞ্চলভিত্তিক সম্ভাব্য রাজনৈতিক ঝোঁক নিচে ছকের মাধ্যমে প্রকাশ করা হলো:
| অঞ্চল / বেল্ট (মোট ২০৯ ওয়ার্ড) | প্রধান রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি | সম্ভাব্য ফলাফলের প্রবণতা |
| উত্তর কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকা | প্রথাগত ভোটার ও তীব্র দলীয় মেরুকরণ | তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে লড়াই কড়া; একাধিক ওয়ার্ডে মার্জিন কম হতে পারে। |
| মধ্য কলকাতা ও বাণিজ্যিক অঞ্চল | মিশ্র জনগোষ্ঠী ও ব্যবসায়ী প্রধান এলাকা | এই অঞ্চলে বিজেপির ভোট শতাংশ ও আসন জয়ের সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। |
| দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতা | আধুনিক আবাসন ও তথ্যপ্রযুক্তি সংলগ্ন এলাকা | তৃণমূলের শক্তিশালী উপস্থিতি, তবে নির্দিষ্ট কিছু ওয়ার্ডে বাম-কংগ্রেস কড়া টক্কর দিচ্ছে। |
| সংযোজিত এলাকা (যাদবপুর, বেহালা, মেটিয়াবুরুজ ইত্যাদি) | নতুন ওয়ার্ড পুনর্নির্ধারণের মূল কেন্দ্র | আসন সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপি ও নির্দল প্রার্থীদের বহুমুখী প্রতিযোগিতা দৃশ্যমান। |
আরও পড়ুনঃ অন্ধকারে ডুবতে বসেছে নেপাল; ভূমিকম্পের ধাক্কায় নেপালে ফাটল ‘জলবোমা’!
নির্বাচনী মোড় ঘোরানোর মূল উপাদানসমূহ (Swing Factors)
১. সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রভাব: ১৪৪ থেকে বাড়িয়ে ২০৯টি ওয়ার্ড করায় প্রতি ওয়ার্ডে ভোটারের সংখ্যা ১৬,০০০-১৮,০০০ এ নেমে এসেছে। ছোট ওয়ার্ডে প্রার্থীর ব্যক্তিগত পরিচিতি ও স্থানীয় ইস্যু বড় ভূমিকা নেবে।
২. তরুণ ও নাগরিক সমাজ: নাগরিক পরিষেবা, জমা জল সমস্যা, ও এলাকার সার্বিক পরিকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে নিরপেক্ষ ভোটারদের রায় সিদ্ধান্তকারী হবে।
৩. ভোটের মেরুকরণ: বিরোধী ভোট কতটা একছত্র বিজেপির দিকে যাচ্ছে নাকি বাম-কংগ্রেসের মধ্যে বিভক্ত হচ্ছে, তার ওপর চূড়ান্ত বোর্ড গঠনের মার্জিন নির্ভর করবে।


