বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত হিমালয়ের দেশ নেপালে দুর্যোগের মেঘ কাটার লক্ষণে নতুন করে বড় উদ্বেগের কারণ দেখা দিয়েছে। তিব্বত ও নেপাল সীমান্তে হিমবাহ ধসের ফলে তৈরি হওয়া একটি প্রাকৃতিক হ্রদের বাঁধ যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে বলে নেপালকে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করেছে চিন। এর ফলে নিম্নাঞ্চলে ফের প্লাবনের সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে এই দুর্যোগে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৫৮৭ ছাড়িয়েছে (অন্যান্য সূত্রে যা ৬০০ অতিক্রম করেছে) এবং তিব্বতে অন্তত ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘হাইকোর্টের নির্দেশ ভেঙেছেন’, মমতার বিরুদ্ধে FIR
চিনের সতর্কবার্তা ও প্রাকৃতিক হ্রদের সৃষ্টি
-
গঠন ও অবস্থান: তিব্বত ও নেপাল সীমান্তে চিনের দিকের চোচেন নদী এবং নেপালের পুরেপু নদীর সঙ্গমস্থলের কাছে হিমবাহ ধসের ধ্বংসাবশেষ আটকে এক প্রাকৃতিক বাঁধের ফলে তৈরি হয়েছে একটি বিশাল অস্থায়ী হ্রদ।
-
জলের পরিমাণ ও প্রবাহ: চিনের জলসম্পদ মন্ত্রক জানিয়েছে, হ্রদটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ লক্ষ ঘনমিটার জল জমেছে। বাঁধটি ভেঙে গেলে লেহেন্দে নদীতে জলের সর্বোচ্চ প্রবাহ প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ কিউবিক মিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
-
বিপদের লক্ষণ: বেজিং সূত্রে জানানো হয়েছে, হ্রদের জলের রং ক্রমশ গাঢ় থেকে গাঢ়তর হচ্ছে, যার অর্থ যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়তে পারে এই প্রাকৃতিক বাঁধ।
আরও পড়ুনঃ বিদ্রোহ ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ৫০ বছর; প্রয়াণ দিবসে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে স্মরণ
প্রশাসনের উদ্বেগ ও সতর্কতা
চিন সরকারের বার্তায় বলা হয়েছে, জলপ্রবাহ খুব বেশি না হওয়ায় নিম্নাঞ্চলে জলস্তর কিছুটা বাড়লেও মারাত্মক রূপ না-ও নিতে পারে। তবে আগাম সতর্কতা হিসেবে নদীর অববাহিকায় ও নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষদের কঠোর সতর্কতায় থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বুধবারে ঘটে যাওয়া তাণ্ডবের ধাক্কা সামলে উঠে যখন উদ্ধারকাজ ও স্বাভাবিকতা ফেরানোর চেষ্টা চলছে, ঠিক সেই সময়ে চিনের দেওয়া এই সতর্কবার্তা কাঠমাণ্ডু ও স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে নতুন করে আশঙ্কার সৃষ্টি করেছে।


