কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
সেবক রোডের নামী মিষ্টির কারখানায় পুরনিগমের সাম্প্রতিক অভিযানের পর এবার শিলিগুড়ির খাদ্য নিরাপত্তার চিত্র আবারও কাঠগড়ায়। গতকাল সকালে শহরের বিভিন্ন বিখ্যাত মিষ্টি ও বিরিয়ানির দোকানে আচমকা চিরুনি অভিযান চলাল রাজ্য খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের আধিকারিকদের বিশেষ টিম। অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে সেবক রোডের অত্যন্ত পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বিরিয়ানির দোকান, যেখানে বিরিয়ানির ভেতরে পোকা মেলার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় ক্রেতা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে।
বিখ্যাত দোকানে পোকা, ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা
রবিবার সকালে খাদ্য দপ্তরের ভিজিল্যান্স ও ফুড সেফটি টিম সেবক রোডের ওই নামী বিরিয়ানি ব্র্যান্ডের আউটলেটে হানা দেয়। খাবার পরীক্ষা করতেই প্লেটে থাকা বিরিয়ানির মধ্যে পোকা দেখতে পাওয়া যায়। শহরের এত বড় ও প্রতিষ্ঠিত একটি বিরিয়ানির দোকানের এই চিত্র সামনে আসতেই ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দেয়।
-
স্থানীয়দের মতামত: এক ক্ষুব্ধ ক্রেতা জানান, “শহরের অন্যতম নামী ও সুনাম অর্জন করা বিরিয়ানির দোকানে যদি এই রকম অবহেলা ও চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখা যায়, তবে সাধারণ ও ছোট দোকানগুলোর ওপর মানুষ কীভাবে ভরসা রাখবে? নিজেদের সামান্য উদাসীনতার জন্য তারা বহুদিনের গড়ে তোলা এত বড় সুনাম নষ্ট করে ফেলছে।”
দোকান সাময়িক বন্ধ না হলেও কড়া হুঁশিয়ারি
খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল থেকে নমুনাসংগ্রহের পাশাপাশি ওই বিরিয়ানি দোকান কর্তৃপক্ষকে চরম সতর্কতা জারি করেছেন।
-
প্রশাসনিক পদক্ষেপ: দোকানটি তৎক্ষণাৎ পুরোপুরি বন্ধের আনুষ্ঠানিক নির্দেশ না দেওয়া হলেও, রান্নার জায়গা পরিষ্কার রাখা, কাঁচামালের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং খাদ্য সুরক্ষার মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শর্তাবলি অমান্য করলে আগামীতে দোকান সিল করে দেওয়া হবে বলেও স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুনঃ ঘিয়ের ওপর ভাসছে মাছি, ড্রেনের ওপর মিষ্টি তৈরি; সেবক রোডের নামী মিষ্টির কারখানায় শিলিগুড়ি পুরনিগমের অভিযান
সারা শহর জুড়ে খাদ্য দপ্তরের চিরুনি অভিযান
কেবল সেবক রোডেই নয়, গতকাল শনিবার সকাল থেকে পুরো শিলিগুড়ি শহর জুড়েই সক্রিয় ছিলেন খাদ্য সুরক্ষাসংক্রান্ত আধিকারিকরা। বিভিন্ন নামী ও অনামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর পরিমাণে বাসী ও নিম্নমানের খাবার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
শহরের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং উৎসবের মরসুমের আগে খাবারের গুণমান বজায় রাখতে আগামী দিনগুলিতেও শিলিগুড়ির আনাচে-কানাচে এই ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে খাদ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।


