বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেওয়াল লিখন ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক নয়া মোড় নিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া সতর্কবার্তার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে থাকা ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান রাতারাতি চুনকাম করে মুছে ফেলা হলেও, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে ফুটে উঠেছে কার্ল মার্কসের উক্তি। নকশালপন্থীদের দিকে আঙুল তুলে এবিভিপি একে ঘিরে তোপ দাগলেও, মার্কসের উক্তি লেখায় কোনো অন্যায় দেখছেন না রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ।
আরও পড়ুনঃ দেওয়ালের ‘লড়াই’! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের বদল যাদবপুরের দেওয়াল
দিলীপ ঘোষের প্রতিক্রিয়া
রবিবার ওপেন এয়ার থিয়েটারের (OAT) দেওয়ালে নতুন করে কার্ল মার্কসের উক্তি লেখা প্রসঙ্গে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ স্পষ্ট বার্তা দেন:
-
গণতান্ত্রিক অধিকার: ভারতে দেওয়াল লিখনের গণতান্ত্রিক অধিকার সবার রয়েছে। কার্ল মার্কসের নীতি বা উক্তি এ দেশে নিষিদ্ধ নয়, তাই তা দেওয়ালে লেখায় কোনো সমস্যা বা আইনি বাধা নেই।
-
দেশবিরোধী স্লোগানের বিরুদ্ধে অবস্থান: দিলীপ ঘোষ বলেন, “অ্যান্টি-ন্যাশনাল স্লোগান মোছার প্রয়োজন মনে করেছে সরকার, তাই করেছে। কার্ল মার্কসের উক্তি তো ব্যান হয়ে যায়নি। তবে ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতাকে চ্যালেঞ্জ করা বরদাস্ত করবে না সরকার।”
-
ক্যাম্পাস দখলকারীদের বার্তা: যারা এতদিন ক্যাম্পাসে দেশবিরোধী আন্দোলনের আস্তানা গড়ে তুলেছিল, এই পদক্ষেপে তারা স্পষ্ট বার্তা পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বিতর্কের নেপথ্যে: শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি
এর আগে ক্যাম্পাসের আর্টস হস্টেলের দেওয়ালে ‘কিষেণজি রেড স্যালুট’ এবং ‘প্যালেস্তাইন মুক্তি’ সংক্রান্ত বিতর্কিত স্লোগানের ভিডিয়ো এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী:
-
জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠার ডাক: তিনি স্পষ্ট জানান, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো মূল্যে জাতীয়তাবাদ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
-
জেএনইউ-ওসমানিয়ার উদাহরণ: জেএনইউ ও ওসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বদলের প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী জানান, রাজ্য প্রশাসন ও উচ্চশিক্ষা দফতর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
আরও পড়ুনঃ ‘দেশদ্রোহী’ তকমা মোছার প্রয়াস; কল্যাণীতে স্বাধীনতা সংগ্রামে বামপন্থীদের ভূমিকার জবাব সিপিএমের
যাদবপুরের বর্তমান পরিস্থিতি
| ঘটনা ক্রম | বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ চিত্র |
| প্রথম পর্যায় | মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পর শনিবার রাতারাতি দেওয়ালের আপত্তিকর গ্রাফিতি ও স্লোগান সাদা রঙে ঢেকে দেয় কর্তৃপক্ষ। |
| দ্বিতীয় পর্যায় | রবিবার রাতে সেই সাদা রঙের ওপরই নীল কালিতে পুনরায় লেখা হয় কার্ল মার্কসের উক্তি। |
| ছাত্র সংগঠনগুলির অবস্থান | এবিভিপি এই কাজের পেছনে নকশালপন্থীদের হাত রয়েছে বলে দাবি করেছে, অন্যদিকে বাম ছাত্র সংগঠনগুলি বাক-স্বাধীনতার পক্ষে সওয়াল করছে। |



