বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
জাতীয় ও রাজ্য সড়কে বেআইনি টোটো, অটো ও ইঞ্জিনভ্যানের বেপরোয়া চলাচল এবং বাসস্ট্যান্ড থেকে জোরপূর্বক যাত্রী তুলে নেওয়ার প্রতিবাদে নদিয়া জেলা জুড়ে স্তব্ধ বেসরকারি বাস পরিষেবা। বাস মালিক ও কর্মীদের অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতির জেরে সকাল থেকেই চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা।
আরও পড়ুনঃ শিয়ালদহ স্টেশনে আগুন, গলগল করে বেরচ্ছে ধোঁয়া
স্তব্ধ প্রধান পথ ও যাত্রীদের নাভিশ্বাস
-
প্রভাবিত রুটসমূহ: কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, কালনা ঘাট, করিমপুর, পলাশী, নবদ্বীপ এবং দত্তপুলিয়া-সহ জেলার সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ রুটে সকাল থেকে একটিও বেসরকারি বাস নামেনি।
-
বিপাকে প্রান্তিক এলাকা: বিশেষ করে করিমপুর, মাজদিয়া ও হাঁসখালি অঞ্চলের যাত্রীরা বিকল্প পরিবহণের অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
-
ভাড়ার জুলুম: বাস না থাকায় টোটো ও অটোচালকরা অতিরিক্ত ভাড়া হাঁকাচ্ছেন। ৪৫ টাকার বাস ভাড়ার জায়গায় টোটো চালকরা ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দাবি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূলের ‘ভালো’ নেতা খুঁজে পাওয়া নিয়ে BJP-কে কড়া সতর্কবার্তা RSS-র
বাস মালিক ও কর্মীদের ক্ষোভের কারণ
মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে ক্ষয়ক্ষতি ও চরম আর্থিক সঙ্কটের একাধিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে:
| সমস্যা ও অভিযোগ | বর্তমান পরিস্থিতি |
| যাত্রী ছিনতাই ও বচসা | বাসস্ট্যান্ডের মুখ থেকেই যাত্রী তুলে নিচ্ছে টোটো-অটো। ফলে বাসের সঙ্গে নিত্যদিন বিবাদ ও অশান্তি লেগে থাকছে। |
| বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি | জেলায় যেখানে আগে কয়েক হাজার বাস চলত, তা কমতে কমতে এখন প্রায় ৫০০টি বাসে ঠেকেছে। যাত্রী না পাওয়ায় ফাঁকা গাড়ি চালাতে গিয়ে তেলের খরচ ও কর্মীদের বেতন ওঠাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। |
| আইন অমান্যের অভিযোগ | সরকারি নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় ও রাজ্য সড়কে রমরমিয়ে চলছে বেআইনি ব্যাটারিচালিত গাড়ি ও ইঞ্জিনভ্যান, যার ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে মরণফাঁদ দুর্ঘটনা। |
বাস মালিকদের দাবি, বারবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো সমাধান না হওয়ায় তাঁরা বাধ্য হয়ে এই অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘটের পথ বেছে নিয়েছেন। প্রশাসন দ্রুত বেআইনি যান চলাচল বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত পরিষেবা স্বাভাবিক হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না।


