বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
অপরাধ দমন, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক নজরদারির দোহাই দিয়ে মোড়ে মোড়ে সিসি (CC) ক্যামেরা বসানোর নামে বিপুল আর্থিক অনিয়ম ও চরম গাফলতির চিত্র সামনে এলো। রাজ্য পুলিশের অভ্যন্তরীণ অডিটে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য—শহরের মোড়ে মোড়ে ক্যামেরা থাকলেও তার লাইভ ফিড পৌঁছাচ্ছে না থানা বা ভবানী ভবনের কন্ট্রোল রুমে। কোথাও ক্যামেরা অকেজো, কোথাও সিভিক ভলান্টিয়ারের নামে সিম নিয়ে তাতে রিচার্জ বন্ধ, আবার কোথাও মেরামত ও নেট রিচার্জের ভুয়া বিল বানিয়ে তুলে নেওয়া হয়েছে সরকারি টাকা।
ভবানী ভবন সূত্রে খবর, এই রিপোর্ট প্রকাশ পাওয়ার পরই শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক তোলপাড়।
অভ্যন্তরীণ অডিটে সামনে আসা প্রধান প্রধান দুর্নীতির চিত্র
রাজ্য পুলিশের অডিট রিপোর্টে যে সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে, তা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে:
| অনিয়মের ক্ষেত্র | অডিট রিপোর্টে উঠে আসা চাঞ্চল্যকর অভিযোগ |
| লাইভ ফিড ও নেট সংযোগ | ইন্টারনেটের সংযোগ প্রথম বছরের পর আর রিচার্জই করা হয়নি। ফলে কন্ট্রোল রুমে লাইভ ফিড আসা বন্ধ হয়ে যায়। অথচ খাতায়-কলমে প্রতি মাসে রিচার্জের ভুয়ো বিল বানিয়ে টাকা তোলা হয়েছে। |
| সিভিক ভলান্টিয়ারের নামে সিম | সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে সিভিক ভলান্টিয়ারদের পরিচয়পত্র (ID) ব্যবহার করে ক্যামেরার সিম ও ইন্টারনেট কানেকশন নেওয়া হয়। আধিকারিকদের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক কর্মী ও বিরোধী নেতাদের ওপর নজরদারির জন্যই এই বেনামী ক্যামেরা বসানো হয়েছিল। |
| রক্ষণাবেক্ষণ ও ভুয়া বিলিং | বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণকারী (AMC) কোম্পানির সাথে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও নবীকরণ করা হয়নি। অথচ ভুয়া মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ দেখিয়ে নিয়মিত জেলাগুলি সরকারি কোষাগার থেকে টাকা তুলেছে। |
| ক্যামেরা চুরি ও জিডি | বহু জায়গায় ক্যামেরা বিকল হওয়ার পর চুরিও হয়ে গেছে, যা নিয়ে পুলিশ কেবল জিডি (GD) করেই দায় সেরেছে। |
আরও পড়ুনঃ ‘রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, আর উলুখাগড়ার প্রাণ যায়’; ওপরে কোলাকুলি, নিচে ‘খুনো-খুনি’! বাংলার নতুন ‘রাজনৈতিক সৌজন্য’?
কঠোর পদক্ষেপের পথে ভবানী ভবন: জারি নতুন নির্দেশিকা
রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও সচল করতে ভবানী ভবনের তরফে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশ জারি করা হয়েছে:
-
নতুন ক্যামেরা ও চুক্তি: জেলাভিত্তিক অকেজো ক্যামেরার তালিকা তৈরি করে সেগুলি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই নতুন ক্যামেরা বসানো এবং দায়িত্বশীল কোম্পানির সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের চুক্তি করা হবে।
-
সিম ও ইন্টারনেটের প্রাতিষ্ঠানিক মালিকানা: ব্যক্তি বা সিভিক ভলান্টিয়ারের নামে নয়, এবার থেকে সরাসরি সংশ্লিষ্ট জেলার নামে সিম ও ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হবে এবং প্রতি মাসে তার রিচার্জ মনিটর করা হবে।
-
নিয়মিত স্টেটাস রিপোর্ট বাধ্যবাধকতা: প্রতিটি জেলা পুলিশকে এখন থেকে নিয়মিত ক্যামেরার ‘স্টেটাস রিপোর্ট’ ভবানী ভবনে জমা দিতে হবে। কোনো কারণে লাইভ ফিড বন্ধ থাকলে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সরাসরি ভবানী ভবনকে দর্শাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


