বিশেষ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি:
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং লোহিতসাগরে বাণিজ্যিক অস্থিরতার জেরে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখে পড়ে পুনরায় ‘স্মার্ট লকডাউন’-এর পথে হাঁটতে চলেছে পাকিস্তান। রাষ্ট্রীয় জ্বালানি সাশ্রয় এবং সরকারি অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদ প্রশাসনের তরফে একাধিক কড়া বিধিনিষেধ সম্বলিত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে।
চলতি বছরের গত মার্চ মাসে আমেরিকা-ইরান সংঘাতের পর যে ধাঁচের অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছিল, এ বারও ঠিক একই ধরনের পদক্ষেপ করল পাক সরকার।
আরও পড়ুনঃ ‘চ্যালেঞ্জ নিবি না’; ‘INS কলকাতা’কে ধাক্কা মেরে সোজা ‘হাসপাতালে’ পাক রণতরী
পাক সরকারের নতুন বিধিনিষেধের মূল সূচক
জরুরি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও দৈনন্দিন ব্যবস্থার ওপর আরোপিত প্রধান নির্দেশনাবলী নিচে তুলে ধরা হলো:
| ক্ষেত্র | নতুন সরকারি নিয়ম ও সময়সীমা |
| দোকানপাট ও শপিং মল | রাত ৯টার মধ্যে সব বাজার, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও মুদি দোকান বন্ধ করতে হবে। |
| বিয়ের অনুষ্ঠান ও ভেন্যু | বিয়ের হল ও প্যান্ডেল রাত ১০টার মধ্যে বন্ধ বাধ্যতামূলক; খাবারের তালিকায় কেবল একটি পদ (Single Course) রাখা যাবে। |
| রেস্তরাঁ ও ক্যাফে | রাত ১১টার মধ্যে ইন-হাউস ক্যাফে ও রেস্তরাঁ বন্ধের নির্দেশ (তবে টেক-অ্যাওয়ে ও হোম ডেলিভারি পরিষেবা সময়সীমার আওতামুক্ত)। |
| সরকারি গাড়ি ও জ্বালানি | নতুন সরকারি গাড়ি কেনার ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ ৫০% হ্রাস। |
| সরকারি কর্তাদের বিদেশ সফর | আগামী ৩ মাস সরকারি কর্মীদের বিদেশ ভ্রমণে বিধিনিষেধ। অপরিহার্য ক্ষেত্রে মন্ত্রী ও কর্তাদের কেবল ‘ইকোনমি ক্লাস’-এ ভ্রমণ করতে হবে। |
আরও পড়ুনঃ টাটায় গৃহযুদ্ধ! টাটা সাম্রাজ্যে চরমে সংঘাত
জরুরি পরিষেবা ও ছাটের আওতায় যারা
সাধারণ নাগরিক ও জরুরি ব্যবস্থার কথা মাথায় রেখে কিছু খাতকে এই স্মার্ট লকডাউনের কড়া সময়সীমা থেকে বাইরে রাখা হয়েছে:
-
স্বাস্থ্যসেবা: হাসপাতাল, ক্লিনিক, ফার্মেসি ও মেডিকেল ল্যাবরেটরি।
-
জ্বালানি কেন্দ্র: সাধারণ পেট্রোল পাম্প, সিএনজি (CNG) স্টেশন এবং ইলেকট্রিক যানবাহন (EV) চার্জিং স্টেশন।
-
বাণিজ্য ও ক্রীড়া: আইটি (IT) কোম্পানি, কল সেন্টার, জিম এবং স্পোর্টস সেন্টার।
উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে দুই সপ্তাহের জন্য স্কুল বন্ধ রাখা এবং সরকারি কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (Work From Home) চালু করার মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। নতুন জারি করা এই বিধিনিষেধ কতদিন কার্যকর থাকবে, সে বিষয়ে সরকারি তরফে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা এখনও জানানো হয়নি।


