মধ্যবিত্ত বাঙালির বিশ্বকর্মা পুজো মানেই ভোরে ঘুম থেকে উঠে সাইকেল বা মোটরবাইক ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করা এবং ফুল-চন্দনে যন্ত্রের আরাধনা। বড় বড় শিল্পকারখানা থেকে শুরু করে ছোটখাটো দোকানপাট—সর্বত্রই শ্রমজীবী মানুষের আপন দেবতা বিশ্বকর্মাকে ঘিরে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। বক্সের গান, আলোর মালা, দিনভর ঘুড়ি ওড়ানো এবং পরের দিন দুপুরে মাংস-ভাতের আয়োজন এই পুজোর অন্যতম অঙ্গ। চলতি বছরে ১৮ সেপ্টেম্বর সাড়ম্বরে পালিত হচ্ছে দেবকূলের এই ইঞ্জিনিয়ারের পুজো।
আরও পড়ুনঃ ঝরেছে ঘাসফুল; কেক, বিস্কুট, ক্যাপসিকাম, কানের দুল! কোন প্রতীকে লড়বে তৃণমূল?
পৌরাণিক সৃষ্টি ও মহাজাগতিক অবদান পৌরাণিক কাহিনী অনুযায়ী, দেবকূলের প্রধান স্থপতি বিশ্বকর্মার হাত ধরেই তৈরি হয়েছে একাধিক ঐতিহাসিক ও স্বর্গীয় কাঠামো:
-
স্বর্গ ও মন্দির নির্মাণ: সত্যযুগে স্বর্গ এবং পুরীর জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূল কাঠামো বা মন্দির নির্মাণ।
-
নগরী স্থাপন: ত্রেতা যুগে ভগবান কৃষ্ণের দ্বারকা ও হস্তিনাপুর নগরী।
-
দিব্য অস্ত্র ও বাহন: মহাদেবের ত্রিশূল, শ্রীহরির সুদর্শন চক্র, হনুমানের গদা, যমরাজের কালদণ্ড, কর্ণের কুণ্ডল এবং কুবেরের পুষ্পক বিমান।
-
বিশেষ সৃষ্টি: ঋষি দধীচির হাড় থেকে ইন্দ্রের জন্য বজ্র, রাবণের লঙ্কাপুরী এবং রামসেতু নির্মাণের সময় নলবানরের সৃষ্টি।
বিশ্বকর্মার জন্মরহস্য ও রূপভেদ শাস্ত্রবিদদের মতে, ‘বিশ্বকর্মা’ কেবল কোনো একক দেবতার নাম নয়; এটি কারুকার্যে পারদর্শী দেবতাদের ক্ষেত্রে একটি বিশেষ উপাধি বা পদ। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন দেবতারা এই দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বকর্মা পুরাণ ও বরাহ পুরাণ অনুযায়ী, আদি নারায়ণ প্রথমে ব্রহ্মা এবং পরবর্তীতে বিশ্বকর্মার সৃষ্টি করেন। পুরাণ অনুসারে বিশ্বকর্মার প্রধান কয়েকটি রূপ বা ধারা রয়েছে:
-
বিরাট বিশ্বকর্মা (প্রথম)
-
ধর্মবংশী বিশ্বকর্মা (দ্বিতীয়)
-
অঙ্গিরাবংশী বিশ্বকর্মা (তৃতীয়)
-
সুধন্ব বিশ্বকর্মা (চতুর্থ)
-
ভৃগুবংশী বিশ্বকর্মা (যিনি অসুরগুরু শুক্রাচার্যের নাতি ছিলেন)


