বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, সিঙ্গুর:
টাটাদের মোটর কারখানার জন্য অধিগৃহীত সেই জমিতে আজও পড়ে রয়েছে পুরনো কাঠামোর ভগ্নাবশেষ—জং ধরা লোহার রড, ইটের স্তূপ আর ভাঙা দেওয়াল। তবে সেই ইতিহাস ও স্মৃতির আবহেই সিঙ্গুরে পালিত হলো বিশ্বকর্মা পুজো। ‘সিঙ্গুর কৃষক শিল্প সমন্বয় পরিষদে’র উদ্যোগে নির্মিত শহিদ স্মৃতিস্তম্ভের পাশেই তৈরি হয়েছে পুজোর মণ্ডপ। ঢাকের আওয়াজ আর আট থেকে আশির উপস্থিতিতে সকাল থেকেই সরগরম এলাকা।
আয়োজক থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা—সবার একটাই প্রার্থনা, বিশ্বকর্মার আরাধনার মধ্য দিয়েই যেন ঘুচে যায় সিঙ্গুরের দীর্ঘদিনের ‘শিল্পখরা’।
আরও পড়ুনঃ বামকে ‘শূন্য’ বলে মমতা আজ নন্দীগ্রামে ‘শূন্য’; নন্দীগ্রামে প্রার্থীই রইল না মমতার!
সিঙ্গুরের বর্তমান পরিস্থিতি ও স্থানীয় চাহিদা
এক সময়ের উর্বর জমিতে একসময় ধানের ফলন হলেও, জমি অধিগ্রহণ ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে সেই জমির বড় অংশই আজ অনাবাদী। কৃষকদের বড় অংশ বাস্তবে মেনে নিয়েছেন যে, এই জমিতে অবিলম্বে ঐতিহ্যবাহী চাষবাস ফিরিয়ে আনা কঠিন।

| বিষয় ও ক্ষেত্র | বর্তমান বাস্তবতা ও স্থানীয় দাবি |
| জমির বর্তমান অবস্থা | অনাবাদী ও চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ে থাকা পুরনো কারখানার জমি। |
| স্থানীয় চাহিদা | দ্রুত কারখানা গড়ে তুলে যুবসমাজের জন্য নতুন কাজের সুযোগ তৈরি করা। |
| সামাজিক প্রত্যাশা | ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কাছে শিল্পায়নের আর্জি জানানো। |
আরও পড়ুনঃ বিশ্বকর্মা পুজোয় হাওড়ার আকাশে গেরুয়া ঘুড়ি, খদ্দের হারিয়ে মন্দার মুখে কারিগররা
রতন টাটার প্রস্থান ও রাজনৈতিক সংকল্প
২০০৮ সালের ৩ অক্টোবর সিঙ্গুর থেকে কারখানা গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছিল টাটা গোষ্ঠী। প্রয়াত শিল্পপতি রতন টাটার সেই সিদ্ধান্তের পর দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও সিঙ্গুরের বুকে শিল্পের অভাব আজও স্পষ্ট। শিল্প চলে যাওয়ার সাথে সাথে যে হাজার হাজার কর্মসংস্থান ও আনুষঙ্গিক অর্থনৈতিক বিকাশ থমকে গিয়েছিল, তা আজও এলাকার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে।
রাজনৈতিক স্তরেও সিঙ্গুরকে কেন্দ্র করে শিল্পায়নের বার্তা জোরালো হচ্ছে।
-
বিজেপির প্রতিশ্রুতি: নির্বাচন উপলক্ষে প্রকাশিত সংকল্পপত্রে বিজেপির পক্ষ থেকে সিঙ্গুরে ডেডিকেটেড ‘শিল্প পার্ক’ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এবং স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক অরূপকুমার দাস সিঙ্গুরে শিল্প ফেরানোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।
-
প্রশাসনিক জল্পনা: বিশ্বকর্মা পুজোর এই বিশেষ দিনে রাজ্যের শিল্প প্রতিনিধি ও প্রশাসনিক ব্যক্তিত্বদের আগমন ঘটে কি না এবং স্থানীয় কৃষকরা তাঁদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে শিল্পের সুনির্দিষ্ট দাবি জানান কি না, সেদিকেই এখন নজর সকলের।


