বিশেষ আবহাওয়া প্রতিনিধি:
বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত শক্তিশালী নিম্নচাপটি ক্রমশ আরও সংগঠিত হয়ে বিপুল পরিমাণ জলীয়বাষ্পপূর্ণ মেঘপুঞ্জ নিজের চারদিকে কেন্দ্রীভূত করেছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেই ঘূর্ণায়মান মেঘমালা আজ ভোররাত থেকেই ধাপে ধাপে পশ্চিমবঙ্গের স্থলভাগে প্রবেশ করতে শুরু করবে। এর প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ—রাজ্যের বিস্তৃত এলাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘চাল থেকে চিনি’ মূল্যবৃদ্ধির আগুনে জ্বলছে বাংলাদেশ; সংকটে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষ
বৃষ্টিপাতের ধরন ও তীব্রতা
-
বৃষ্টির প্রকৃতি: বিক্ষিপ্তভাবে দফায় দফায় বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টি।
-
তীব্রতা: মাঝারি থেকে ভারী, কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।
-
স্থায়িত্ব: প্রতিটি স্পেল ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা ৩০ মিনিট স্থায়ী হতে পারে; কিছু এলাকায় টানা কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ উৎসবের মুখে ধাক্কা জোম্যাটোর! ক্যাশ অন ডেলিভারিতে বসলো নতুন মাসুল, পকেটে টান মধ্যবিত্তের
আঞ্চলিক প্রভাব ও ঝুঁকির মাত্রা
বৃষ্টিপাতের প্রভাব বিবেচনা করে রাজ্যটিকে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে:
| প্রভাবের মাত্রা | আওতাধীন জেলাসমূহ | সম্ভাব্য প্রভাব ও পরিস্থিতি |
| সর্বাধিক প্রভাবিত (দক্ষিণবঙ্গ) | কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম। | নিম্নাঞ্চলে জলজট, শহরের নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি এবং যাতায়াতে ব্যাঘাত। |
| তুলনামূলক কম প্রভাবিত | নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, পূর্ব বর্ধমান, পশ্চিম বর্ধমান, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া। | মাঝারি থেকে হালকা-মাঝারি ধরনের দফায় দফায় বৃষ্টিপাত। |
| বিশেষ সতর্কতায় (উত্তরবঙ্গ) | দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার ও উত্তর দিনাজপুর। | পাহাড়ি এলাকায় ধস, পার্বত্য সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ঝুঁকি। |
আবহাওয়াবিদদের মতে, উপকূলবর্তী ও পাহাড়ি এলাকায় অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের এবং মৎস্যজীবীদের সমুদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


