বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি:
দুর্গাপুজোর আবহেই রাজ্যজুড়ে পুজো কমিটিগুলির জন্য বড়সড় আর্থিক পুরস্কার ও সম্মানের ঘোষণা করল নতুন রাজ্য সরকার। রাজনৈতিক পালাবদলের পর পুজোয় থিম বা চমকের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিতে এক নতুন পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। এবার থেকে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে চালু হচ্ছে ‘গ্রিন দুর্গাপুজো এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’। প্লাস্টিকমুক্ত পরিবেশ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক সচেতনতায় বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া পুজো কমিটিগুলিকে নগদ অর্থ ও স্মারক দিয়ে পুরস্কৃত করবে সরকার।
বৃহস্পতিবার এক মহতী সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এই গ্রিন অ্যাওয়ার্ড ও সরকারের পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার বিশদ রূপরেখা প্রকাশ করেন।
যে ৪টি বিভাগে দেওয়া হবে এই সম্মান:
পরিবেশ ও সমাজ সচেতনতামূলক কার্যক্রমের ওপর ভিত্তি করে মূলত চারটি প্রধান বিভাগে পুজো কমিটিগুলিকে মূল্যায়ন করা হবে:
১. শ্রেষ্ঠ গ্রিন দুর্গাপুজো: সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব, জৈব বা পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ দিয়ে মণ্ডপসজ্জা ও আলোকসজ্জা তৈরির স্বীকৃতি। ২. শ্রেষ্ঠ পরিচ্ছন্ন ও বর্জ্য স্মার্ট পুজো: মণ্ডপ ও সংলগ্ন এলাকায় প্লাস্টিক বর্জন, কার্যকর বর্জ্য পৃথকীকরণ ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতার জন্য। ৩. শ্রেষ্ঠ সচেতনতা উদ্যোগ: সামাজিক, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতামূলক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগের জন্য। ৪. কমিউনিটি এনগেজমেন্ট অ্যাওয়ার্ড: উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অধিবাসীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ।
পুরস্কার ও আর্থিক অনুদানের তালিকা:
রাজ্যস্তরের সেরা পুজো কমিটিগুলির পাশাপাশি জেলাস্তরেও সফল পুজো কমিটিগুলিকে আর্থিক পুরষ্কার প্রদান করবে রাজ্য সরকার।
আরও পড়ুনঃ ‘অম্বানী কি ভারতের আসল মালিক?’ স্টারলিঙ্ক জটিলতায় মাস্কের বিস্ফোরক পোস্ট
‘গ্রিন দুর্গাপুজো ইভ্যালুয়েশন অ্যাপ’ ও চারাগাছ বিতরণ
পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, স্বচ্ছতার সঙ্গে মূল্যায়ন ও আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে একটি বিশেষ পোর্টাল ও ‘গ্রিন দুর্গাপুজো ইভ্যালুয়েশন অ্যাপ’ চালু করা হয়েছে। এই অ্যাপের মাধ্যমে রাজ্যের যে কোনো প্রান্তের পুজো কমিটি সহজে আবেদন ও ছবি বা নথি জমা দিতে পারবে।
এছাড়া, কেবল প্যান্ডেল কেন্দ্রিক উৎসব নয়—দর্শনার্থীদের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দিতে মণ্ডপের পাশে বিশেষ স্টল তৈরি করে আগত দর্শনার্থীদের হাতে চারাগাছ তুলে দেওয়ার জন্য পুজো কমিটিগুলিকে সরকারের তরফ থেকে বিশেষভাবে উৎসাহিত ও সাহায্য করা হবে। রাজ্য সরকারের এই অভিনব উদ্যোগ ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির মধ্যে প্রতিযোগিতা এবং পরিবেশ সচেতনতার এক নতুন বার্তা বহন করে আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।


