Saturday, 10 October, 2026
10 October
HomeকলকাতাMahalaya: যে কণ্ঠে জাগে শিকড়ের টান; বাঙালির অকৃত্রিম মহালয়া ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের...

Mahalaya: যে কণ্ঠে জাগে শিকড়ের টান; বাঙালির অকৃত্রিম মহালয়া ও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের অমর উত্তরাধিকার

বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কেবল একটি নাম নন, তিনি বাঙালির উৎসবের প্রথম অঙ্কুরোদগম।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ নিবন্ধ, সম্পাদকীয় বিভাগ:

প্রবাসে থাকা ছেলে-মেয়েরা বছরের নির্দিষ্ট দিনে যেমন ভিটেমাটির টানে ঘরে ফিরে আসে, তেমনই নস্টালজিক বাঙালিকে প্রতি বছর আশ্বিনের ভোরে শিকড়ের টানে বেতারের সামনে স্থির করে রাখেন যে মানুষটি—তিনি আর কেউ নন, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। মহালয়া, মহিষাসুরমর্দিনী এবং বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র—এই তিনটি নাম যেন মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, যা চিরকাল এক নিঃশ্বাসে উচ্চারিত হয়। সাদামাটা ধুতি-পাঞ্জাবি পরা সেই মানুষটির উদাত্ত ও মায়াবী কণ্ঠেই বাঙালির শারদোৎসবের মহালগ্ন সূচিত হয়।

আরও পড়ুনঃ চিরন্তন বাঙালি আত্মপরিচয়; রাত পোহালেই মহালয়া

শৈশবের শিক্ষা থেকে আকাশবাণীর স্বর্ণযুগ

১৯০৫ সালের এই বিশেষ দিনটিতেই উত্তর কলকাতার আহিরীটোলায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন প্রবাদপ্রতিম বেতার ব্যক্তিত্ব বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র। তাঁর পিতা রায়বাহাদুর কালীকৃষ্ণ ভদ্র ছিলেন বিশিষ্ট ভাষাতত্ত্ববিদ এবং মাতা সরলা দেবী। ছোটবেলায় ঠাকুরমা যোগমায়া দেবীর কাছে সংস্কৃত ও শাস্ত্রীয় শিক্ষার হাতেখড়ি হয়েছিল তাঁর। মাত্র আট বছর বয়সেই তাঁর প্রখর স্মৃতিশক্তি ও নির্ভুল চণ্ডীপাঠ সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল।

প্রাথমিক জীবনে ১৯২৮ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া রেলওয়েতে কর্মজীবন শুরু করলেও তাঁর মন পড়ে থাকত ১ নম্বর গার্স্টিন প্লেসের ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র দফতরে। অফিস শেষের আড্ডা থেকেই ধীরে ধীরে তিনি যুক্ত হন বেতার নাটকের সঙ্গে এবং পরবর্তীতে রেলের চাকরি ছেড়ে পাকাপাকিভাবে আকাশবাণীতে যোগ দেন।

‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সৃষ্টির নেপথ্য ইতিহাস

আকাশবাণীতে যোগ দেওয়ার পর বাণীকুমার ভট্টাচার্যের রচনা, রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিকের সুর এবং পরিচালনায় শুরু হয় মহালয়ার কালজয়ী অনুষ্ঠান ‘মহিষাসুরমর্দিনী’।

  • লাইভ সম্প্রচারের যুগ: সেই যুগে কোনো রেকর্ড করা ক্যাসেট ছিল না। আগের রাত থেকেই স্টুডিওতে রাত জাগতেন বীরেন্দ্রকৃষ্ণ। ভোরবেলায় ঠান্ডা জলে স্নান সেরে, গরদের ধুতি-পাঞ্জাবি পরে তিনি চণ্ডীপাঠে বসতেন।

  • অনন্য ভঙ্গি: একবার স্টুডিওতে রসিকতা করে বাংলা ভাষ্যটিও সংস্কৃত স্তোত্রের ঢঙে সুর করে পড়তে শুরু করেন তিনি। তাঁর সেই অনন্য বাচনভঙ্গিই কালক্রমে সৃষ্টি করে এক ইতিহাস, যা পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে বাণীকুমারের পরামর্শে পাকা রেকর্ডে রূপ নেয়।

আরও পড়ুনঃ  মহালয়ায় তর্পণ ঘিরে গঙ্গার ঘাটে আঁটসাঁট নিরাপত্তা, থাকছে ভাসমান ব্যারিকেড ও বায়ো-টয়লেট

নাট্যকার বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ও মহানায়ক উত্তমকুমারের সেই বিতর্কিত অধ্যায়

রেডিওর জাদুকরী কণ্ঠ ছাড়াও বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ছিলেন একাধারে এক সফল নাট্যকার, সমৃদ্ধ লেখক এবং দক্ষ পরিচালক। তিনি পেশাদারি মঞ্চে ‘সাহেব বিবি গোলাম’-এর মতো ক্লাসিক নাটক পরিচালনা করেছিলেন এবং ‘নিষিদ্ধ ফল’-এর মতো চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছিলেন।

তবে তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি এসেছিল ১৯৭৬ সালে। আকাশবাণী কর্তৃপক্ষ হঠাৎই প্রথা ভেঙে মহানায়ক উত্তমকুমারকে দিয়ে চণ্ডীপাঠ করানোর সিদ্ধান্ত নেয়। বাঙালির আবেগ ও ঐতিহ্যে সরাসরি আঘাত লাগায় সাধারণ মানুষ ফুঁসে ওঠে, রেডিও অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখায়। কেউ সেদিন উত্তমকুমারের পাঠ স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে সে বছরই ষষ্ঠীর দিন পুনরায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণের কণ্ঠেই ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ সম্প্রচার করতে হয় কর্তৃপক্ষকে। এই গোটা ঘটনায় বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ছিলেন সম্পূর্ণ নির্বিকার ও শান্ত—কারণ তিনি জানতেন, কিছু শিল্প ও সৃষ্টি মানুষের হৃদয়ে চিরকালের জন্য স্থান করে নেয়, যা বদলানোর সাধ্য কারও নেই।

আজকের ব্যস্ত ও আধুনিক যুগেও মহালয়ার ভোরের সেই চণ্ডীপাঠ আর শঙ্খধ্বনি বাঙালির ঘরোয়া নস্টালজিয়াকে জীবন্ত করে তোলে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কেবল একটি নাম নন, তিনি বাঙালির উৎসবের প্রথম অঙ্কুরোদগম।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন