বিশেষ জাতীয় প্রতিনিধি, নতুন দিল্লি:
দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের পুলিশের জালে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র দুই শীর্ষ নেতা। মঙ্গলবার সকালে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তর মন্তরে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগে ওই দলের প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং জাতীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। এর আগে গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দর থেকে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, যা নিয়ে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ ১৯৪৬-এর ছায়া কি ফিরছে তিলোত্তমায়? উৎসবের মরশুমে রাজাবাজারের মিছিল নিয়ে চরম আশঙ্কায় বাংলা
যন্তর মন্তরে কড়া নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশের পদক্ষেপ
সোমবারই দিল্লি পুলিশ একটি সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেয় যে, ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে আর কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রতিবাদ বা বিক্ষোভের অনুমতি দেওয়া হবে না। আন্দোলনের জন্য রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান এবং সিবিডি ময়দান—এই তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
এর পরই সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় গিয়ে সিজেপি নেতৃত্ব তীব্র আপত্তি জানায় এবং পুলিশকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে বিকল্প ধর্ণার জায়গা জানানোর সময়সীমা বেঁধে দেয়। কিন্তু সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরোনোর আগেই মঙ্গলবার সকালে সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সটান যন্তর মন্তরে উপস্থিত হন, আর তারপরেই তাঁদের আটক করে পুলিশ।
আরও পড়ুনঃ প্রতিবাদের নতুন ঠিকানায় পকেটে টান! রামলীলা ময়দানে বিক্ষোভ দেখাতে খরচ ১ লক্ষ ২১ হাজার
গ্রেফতারির ইতিহাস ও মুক্তির শর্ত
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাতে যাওয়ার প্রাক্কালে দিল্লি বিমানবন্দর থেকেই সিজেপি নেতা অভিজিৎ দিপকে, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে প্রতিরোধমূলক আইনের ধারায় বিমানের ভেতর থেকে আটক করেছিল পুলিশ। গত রবিবার এক এগ্জিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তাঁদের হাজির করার পর শর্তসাপেক্ষে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, মুক্তির সময় তাঁদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, আগামী এক বছর তাঁরা শান্তিভঙ্গ করতে পারে এমন কোনো কার্যকলাপে যুক্ত থাকতে পারবেন না। মনে করা হচ্ছে, জামিনের সেই শর্ত ও নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করেই এদিন তাঁরা যন্তর মন্তরে হাজির হয়েছিলেন, যার জেরে পুনরায় তাঁদের আটক করল দিল্লি পুলিশ। রাজধানীর বুকে প্রতিবাদী স্বর দমনে প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


