বিশেষ উত্তর-পূর্ব ও অপরাধ প্রতিবেদন:
উৎসবের মরসুমের মাঝেই প্রতিবেশী রাজ্য অসমের গুয়াহাটিতে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ও রক্তক্ষয়ী কাণ্ড। শহরের অন্যতম ব্যস্ত বোরা সার্ভিস (Bora Service) এলাকার একটি অভিজাত হোটেলের ভেতরে ঢুকে এক অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ী এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। বন্দুকবাজের অতর্কিত হামলায় ঘটনাস্থলেই অন্তত ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে জনবহুল এলাকার একটি হোটেলে এমন তাণ্ডবের ঘটনায় পুরো গুয়াহাটি শহরজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
ঘটনার প্রাথমিক বিবরণ ও হতাহতের চিত্র
পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্ট ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আচমকাই আততায়ী বা আততায়ীরা হোটেলের ভেতরে প্রবেশ করে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে অন্ধের মতো গুলি চালাতে শুরু করে। আচমকা এই হামলায় হতচকিত হয়ে পড়েন হোটেলের অতিথি ও কর্মরত কর্মচারীরা।
-
গুলিবিদ্ধ ও হতাহত: প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, মোট ৫ জন এই ঘটনায় সরাসরি গুলিবিদ্ধ হন, যার মধ্যে ৩ জন পুরুষ এবং ২ জন মহিলা। গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়া মানুষদের মধ্যে হোটেলের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
-
উদ্ধার কাজ: পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৪ জনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। বাকি আহতদের দ্রুত আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে মৃত এবং চিকিৎসাধীন জখমদের সঠিক পরিচয় ও নাম-ধাম এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি প্রশাসন।
তদন্তে গুয়াহাটি পুলিশ ও কমিশনারের মন্তব্য
ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন গুয়াহাটির পুলিশ কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে কমিশনার সংবাদমাধ্যমকে জানান:
“আমরা হোটেল থেকে চারজনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছি। দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃতদের পরিচয় শনাক্তকরণের কাজ দ্রুততার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ এবং আঘাতের ধরণ স্পষ্ট হবে। একই সঙ্গে এই হামলার নেপথ্যে কোনো ব্যক্তিগত শত্রুতা, ব্যবসায়ী সংক্রান্ত বিবাদ নাকি কোনো বড় ধরনের গ্যাংস্টার বা জঙ্গিগোষ্ঠীর হাত রয়েছে—সবদিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
আরও পড়ুনঃ হারিয়ে যাওয়া মার্টিন রেল! বাগুইআটির বুকে আজও বেঁচে আছে ছোটগাড়ির স্মৃতি
ঘন কুয়াশায় আততায়ীর হদিস ও তদন্তের দিশা
ঘটনার সময় ঠিক কত রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল এবং সেই মুহূর্তে হোটেলের ভেতরে কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা জানতে হোটেলের সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ফরেনসিক টিম ও ডগ স্কোয়াড ঘটনাস্থলে গিয়ে নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে।
যেভাবে ব্যস্ত এলাকায় ঢুকে এমন দুঃসাহসিক কিলিং মিশন চালানো হলো, তাতে পুলিশের নিরাপত্তা ও নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। আপাতত পুলিশ গোটা এলাকা কর্ডন করে আততায়ীর খোঁজে জোর তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে। আহতদের জবানবন্দি এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই খুনিদের ট্রেস করার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।


