Wednesday, 28 October, 2026
28 October
HomeকলকাতাSister Nivedita: ভগিনী নিবেদিতার জন্মজয়ন্তী; ভারতের মাটি ও মানসে উৎসর্গীকৃত এক মহতী...

Sister Nivedita: ভগিনী নিবেদিতার জন্মজয়ন্তী; ভারতের মাটি ও মানসে উৎসর্গীকৃত এক মহতী প্রাণের স্মরণ

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেও তাঁর চিন্তার আত্মিক গভীরতা ছিল প্রবল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ শ্রদ্ধার্ঘ্য ও সামাজিক প্রতিবেদন:

আজ, ২৮ অক্টোবর—মহান মানবতাবাদী, শিক্ষাব্রতী, আধুনিক ভারতের নারীশিক্ষার রূপকার এবং স্বাধীনতা সংগ্রামের নেপথ্য প্রেরণা ভগিনী নিবেদিতার শুভ জন্মজয়ন্তী। আয়ারল্যান্ডের মাটিতে জন্মগ্রহণকারী মার্গারেট এলিজাবেথ নোবেল ভারতের মাটিতে পা রেখে যেভাবে দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছিলেন, তা ইতিহাসের পাতায় এক অনন্য ও চিরভাস্বর অধ্যায়।

আরও পড়ুনঃ নজিরবিহীন নৈরাজ্য এলাহাবাদ হাইকোর্টে! ভাঙচুর চালালেন আইনজীবীরা; তছনছ বিচারপতির এজলাস

মার্গারেট থেকে ‘নিবেদিতা’: স্বামীজির আদর্শে জীবন পরিবর্তন

১৮৯৫ সালে লন্ডনে স্বামী বিবেকানন্দের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ ঘটে মার্গারেট নোবেলের। স্বামীজির মহতী ব্যক্তিত্ব, অহংবর্জিত স্বভাব ও মানবকল্যাণমূলক বার্তা তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। সেই দিনই তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, ভারতের নারীশক্তি ও সমাজ পুনর্গঠনই তাঁর জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য।

১৮৯৮ সালে ভারতে আসার পর স্বামী বিবেকানন্দের হাতেই তিনি সন্যাসে দীক্ষিত হন এবং তাঁর নতুন নামকরণ হয় ‘নিবেদিতা’—অর্থাৎ যিনি নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ভারতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন।

নারীশিক্ষা ও মা শারদাদেবীর স্নেহধন্য সূচনা

কলকাতায় এসে নিবেদিতা সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন কন্যাসন্তানদের শিক্ষার ওপর। উত্তর কলকাতার বোসপাড়া লেনে তিনি মেয়েদের জন্য যে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার শুভ সূচনা করেছিলেন স্বয়ং মা শারদাদেবী। মা শারদাদেবী নিবেদিতাকে কেবল আশীর্বাদই করেননি, বরং নিজের কন্যার স্নেহে আগলে রেখেছিলেন, যা নিবেদিতাকে ভারতের সামাজিক প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি জুগিয়েছিল।

জাতীয় সংগ্রাম ও বঙ্গীয় রেনেসাঁয় ঐতিহাসিক ভূমিকা

ভগিনী নিবেদিতা কেবল শিক্ষার আলো জ্বালাননি, বরং ভারতের রূপান্তর ও স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথেও গভীরভাবে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে গিয়েছিলেন:

  • বিপ্লবী আন্দোলনের নেপথ্য প্রেরণা: অরবিন্দ ঘোষ, বারীন্দ্রকুমার ঘোষদের মতো বিপ্লবীদের তিনি নানাভাবে অনুপ্রাণিত ও প্রশাসনিক সমর্থন জোগাতেন।

  • শিল্প ও বিজ্ঞান সাধনায় সহযোগিতা: আচার্য জগদীশচন্দ্র বসুর গবেষণা ও আবিষ্কারকে আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি দিতে এবং অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও নন্দলাল বসুর ভারতীয় চিত্রশিল্পের বিকাশ ও প্রসারে নিবেদিতার অবদান ছিল অসামান্য। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গেও তাঁর চিন্তার আত্মিক গভীরতা ছিল প্রবল।

আরও পড়ুনঃ  “এই সুন্দর স্বর্নালী সন্ধ্যায়” গ্রেফতার মমতার ‘তানসেন’ গায়ক ইন্দ্রনীল

চিরস্মরণীয় ঐতিহ্য

১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর দার্জিলিঙের শান্ত ও স্নিগ্ধ পরিবেশে মাত্র ৪৪ বছর বয়সে মহাপ্রয়াণ ঘটে এই মহান সাধিকার। হিন্দু শাস্ত্রীয় ও সামাজিক রীতিনীতি মেনেই দার্জিলিঙে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষকৃত্য।

“যে ভারত আজ স্বাধীন ও স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখে, সেই ভারতের ভিত্তিপ্রস্তর তৈরিতে নিবেদিতার ত্যাগ ও মূল্যবোধ অমর হয়ে থাকবে।” আজকের এই বিশেষ দিনে দেশবাসী ও তরুণ সমাজ শ্রদ্ধার্ঘ্য জানাচ্ছে ভারতের এই সত্যকার ‘নিবেদিত’ প্রাণকে।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন