বিশেষ অপরাধ ও রাজনৈতিক প্রতিবেদন:
ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের রাজনৈতিক সমীকরণে ফের নতুন উত্তেজনা। জগদ্দলের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যামের নৈহাটির বাসভবনে বুধবার রাতে হঠাৎই হানা দিল কেন্দ্রীয় আয়কর দপ্তর (Income Tax Department)। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। একই দিনে সকালে আবার জগদ্দলে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে সিআইডি (CID) আধিকারিকরা গিয়ে নোটিস সেঁটে আসায় বিষয়টিকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা।
আরও পড়ুনঃ ৫ নভেম্বর ৪৮ লক্ষ অ্যাকাউন্টে ঢুকবে টাকা, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
নৈহাটির বাড়িতে ২ ঘণ্টার অভিযান: বাজেয়াপ্ত নথিপত্র
বুধবার রাতে সাত সদস্যের একটি আয়কর দল পৌঁছায় সোমনাথ শ্যামের নৈহাটির বাসভবনে। আয়কর সূত্রে জানা গিয়েছে:
-
তল্লাশির ব্যাপ্তি: প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পুরো বাড়ি খতিয়ে দেখা হয়। প্রাক্তন বিধায়কের একাধিক আলমারি তল্লাশি করার পাশাপাশি আয়কর আধিকারিকেরা বেশ কিছু স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির নথি পরীক্ষা করেন।
-
নথি বাজেয়াপ্ত: তল্লাশি অভিযান শেষে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত বিশদ বিবরণ এবং একাধিক জমির নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করে নিয়ে যান আধিকারিকেরা।
তবে ঠিক কী অভিযোগের ভিত্তিতে বা আয়কর ফাঁকির কতটা গরমিল পেয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে আয়কর দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক স্পষ্টীকরণ মেলেনি।
“নিশ্চয়ই কিছু পেয়েছে, উনি দুর্নীতিগ্রস্ত”: বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়
প্রাক্তন শাসক বিধায়কের বাড়িতে আয়কর দপ্তরের হানাকে কেন্দ্র করে কড়া আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপি। নৈহাটির বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় একটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিক্রিয়ায় বলেন:
“সোমনাথ শ্যামের বিরুদ্ধে বহু মামলা ও দুর্নীতি মামলা রয়েছে। আয়কর দপ্তরের আধিকারিকেরা যখন এসেছেন, তখন নিশ্চয়ই নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ ও আর্থিক অসঙ্গতি পেয়েই এসেছেন। উনি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ।”
তবে আয়কর তল্লাশিতে ঠিক কতটা পরিমাণ অঘোষিত অর্থ বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে, তা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য এখনও পর্যন্ত বিজেপি বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল—কারোর পক্ষ থেকেই প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
আরও পড়ুনঃ ‘নিয়মিত কথা হচ্ছে..’; ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের নজর বামেদের দিকে, বিস্ফোরক শতরূপ
সকালে সিআইডির হানা ও নোটিস ছেঁড়ার অভিযোগ
আয়কর অভিযানের কয়েক ঘণ্টা আগে, বুধবার সকালেই সোমনাথ শ্যামের স্ত্রী সঙ্গীতা সাউয়ের খোঁজে জগদ্দলের বাবু কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত তাঁর শ্বশুরবাড়িতে হানা দেয় রাজ্য সিআইডি-র একটি বিশেষ দল।
-
নোটিস ছেঁড়ার বিতর্ক: সিআইডি আধিকারিকেরা বাড়িতে সঙ্গীতা সাউয়ের সন্ধান করেন। তবে কাউকে না পেয়ে তারা বাড়ির বাইরের দেওয়ালে একটি তলবি নোটিস সাঁটিয়ে রেখে চলে যান। সিআইডি দল স্থান ত্যাগ করার পরই স্থানীয় কয়েকজন এবং বিজেপির অভিযোগ—বাড়ির লোকজন সেই সরকারি নোটিস ছিঁড়ে ফেলেন।
-
পরিবারের বক্তব্য: সোমনাথ শ্যামের শ্যালক সঞ্জয় সাউ জানান, সিআইডি আধিকারিকেরা এসে তাঁর বোন সঙ্গীতা সাউয়ের খোঁজ করেছিলেন। তবে পরিবারের কাউকেই কোনো জিজ্ঞাসাবাদ না করে নোটিস দিয়ে তাঁরা ফিরে যান।
দুই তদন্তের সূত্র কি এক? তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা
একদিকে সকালে রাজ্য সিআইডির সাঁটানো নোটিস এবং অন্যদিকে সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় আয়কর দপ্তরের বাজেয়াপ্তি অভিযান—একই দিনে দুই পৃথক তদন্তকারী সংস্থার এই তৎপরতায় জগদ্দল ও ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সিআইডি এবং আয়কর—এই দুই সংস্থার পৃথক পদক্ষেপে কি একই আর্থিক অনিয়ম বা কোনো ফৌজদারি যোগসূত্র রয়েছে, নাকি দুটি আলাদা মামলার অংশ হিসেবে এই জোড়া হানা, সে বিষয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি।


