বিশেষ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও প্রযুক্তি প্রতিবেদন:
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ই-কমার্স ও প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যামাজনে (Amazon) ফের ছাঁটাইয়ের ধাক্কা। এবার সংস্থার ‘ডিভাইসেস অ্যান্ড সার্ভিসেস’ (Devices and Services) বিভাগ থেকে প্রায় ২৫০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করা হলো। বুধবার ভোরেই সংশ্লিষ্ট কর্মীদের কাছে ই-মেল ও খুদে বার্তা (SMS) পাঠিয়ে তাঁদের চাকরি ছাঁটাইয়ের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্বজুড়ে মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রযুক্তি বিভাগের কর্মীরাই এই সিদ্ধান্তের ফলে সরাসরি প্রভাবিত হয়েছেন।
“সহজ ছিল না সিদ্ধান্ত”: সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের দাবি অ্যামাজনের
সংস্থার এক মুখপাত্র ছাঁটাইয়ের সত্যতা স্বীকার করে জানান, কর্মীদের ছাঁটাই করার পদক্ষেপটি কখনোই সহজ ছিল না।
-
পুনর্বিন্যাসের যুক্তি: অ্যামাজনের তরফে দাবি করা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক পরিকাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করে কাজের গতি বৃদ্ধি করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং কর্মী কাঠামোর সামঞ্জস্য বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই নির্দিষ্ট পদগুলি বিলুপ্ত করা হয়েছে।
-
প্রভাবিত ক্ষেত্র: মূলত হার্ডওয়্যার, ই-রিডার ও অ্যালেক্সা (Alexa) ডিভাইসের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট টিমের ওপর এই ছাঁটাইয়ের প্রভাব পড়েছে।
নতুন ডিভাইস লঞ্চের মাঝেই কর্মী ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত
কৌতূহলের বিষয় হলো, একের পর এক নতুন হার্ডওয়্যার পণ্য বিশ্ববাজারে নিয়ে আসার মাঝেই এই ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করল অ্যামাজন।
-
সম্প্রতি বাজারজাত করা হয়েছে নতুন প্রজন্মের ‘কিন্ডল ই-রিডার’ (Kindle E-reader) এবং আপডেট করা ট্যাবলেট কম্পিউটার।
-
এমনকি বুধবারই অ্যালেক্সা চালিত একগুচ্ছ নতুন স্মার্ট অ্যালার্ম ক্লক এবং ডিজিটাল ফটো ফ্রেম আনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে টেক-দৈত্যটি।
নতুন পণ্য বাজারজাতকরণের এই ব্যস্ত সময়ের মধ্যেই কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা প্রযুক্তি মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে।
আরও পড়ুনঃ বেআইনি ৭ কোটি টাকা জমা হয়েছিল যুব তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে, অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিতের বিস্ফোরক বয়ান
এক মাসে জোড়া ছাঁটাই: এআই-তে ২২০ বিলিয়ন ডলারের বিশাল বাজি
চলতি অক্টোবরের শুরুতেই অ্যামাজন তাদের মূল খুচরা ব্যবসা বা রিটেল (Retail) বিভাগ থেকে প্রায় ১,০০০ জন কর্মীকে ছাঁটাই করেছিল। ফলে এক মাসের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় দফার ছাঁটাই। উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে এক লপ্তে ১৪,০০০ জন এবং চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আরও ১৬,০০০ জন কর্মী ছাঁটাইয়ের কথা ঘোষণা করেছিল মার্কিন এই প্রযুক্তি সংস্থাটি।
প্রথাগত প্রশাসনিক ও টেকনিক্যাল পদে কর্মী সঙ্কোচন করলেও, অ্যামাজন এখন তাদের পুরো মনযোগ ও বিপুল অর্থ ঢালছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) প্রযুক্তির গবেষণায়। বাজার বিশেষজ্ঞদের অনুমান, কেবল চলতি বছরটিতেই এআই পরিকাঠামো গড়ে তুলতে প্রায় ২২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ বিনিয়োগ করতে চলেছে জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থা। প্রথাগত পদ বিলুপ্ত করে এআই-চালিত প্রযুক্তির দিকে সংস্থার ঝুঁকাই বারবার এই ধরনের ছাঁটাইয়ের মূল কারণ বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।


