Saturday, 31 October, 2026
31 October
Homeদক্ষিণবঙ্গDuttapukur: দত্তপুকুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ! গ্রেফতার চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি

Duttapukur: দত্তপুকুরে সাড়ে তিন বছরের শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ! গ্রেফতার চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তি

পরিবারের দাবি, ফাঁড়ির পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে টালবাহানা ও অস্বীকার করছিল।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিবেদন:

উত্তরাখণ্ড থেকে শুরু করে খাস বাংলা—নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে সুর চড়লেও উত্তর ২৪ পরগনার মাটিতে ফের এক নৃশংস শিশু নিগ্রহের ঘটনা সামনে এল। উত্তর ২৪ পরগনার দত্তপুকুর থানার নীলগঞ্জ ফাঁড়ি এলাকার সুভাষনগরে সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন হেনস্থার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্তকে পুলিশ গ্রেফতার করলেও, প্রাথমিক পর্যায়ে থানায় অভিযোগ নিতে গড়িমসি এবং স্বাস্থ্যপরীক্ষায় দীর্ঘ দেরির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা ও পরিবারের সদস্যরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন।

আরও পড়ুনঃ  টলমল ওমর আবদুল্লার গদি! বিদ্রোহ দলেরই ২৪ বিধায়কের; এবার কাশ্মীরে বড়সড় ‘খেলা’ 

ঘটনার বিবরণ ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তার

নিপীড়িত শিশুটির পরিবার সুভাষনগরে একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করে। অভিযুক্ত অর্জুন সর্দার (বয়স চল্লিশের কোঠায়) এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন।

  • কী ঘটেছিল? অভিযোগ, লভ্য সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে পাশের বাড়ির ছাদে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন চালান। বৃহস্পতিবার শিশুটিকে নিয়ে তার মা বাপের বাড়ি চলে যাওয়ায় বিষয়টি প্রথমে জানাজানি হয়নি।

  • পরিবারের ক্ষোভ ও গ্রেফতার: শুক্রবার পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘটনাটি জানতে পারলে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়ায়। ওই দিনই বিকেলে মা ও শিশুকে সুভাষনগরে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর অভিযুক্ত অর্জুন সর্দার-কে আটক করে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে। শনিবার তাঁকে বারাসত আদালতে পেশ করা হয়।

পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও অভিযোগ নিতে অনীহা

ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় নীলগঞ্জ ফাঁড়িতে অভিযোগ জানাতে গেলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন ওঠে।

  • পরিবারের দাবি, ফাঁড়ির পুলিশ প্রথমে অভিযোগ নিতে টালবাহানা ও অস্বীকার করছিল।

  • পরবর্তীতে স্থানীয় মানুষের চাপ ও প্রতিবাদের মুখে পুলিশ লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করতে বাধ্য হয় এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেয়।

বারাসত মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসকের অভাব ও স্থানীয় বিক্ষোভ

শিশুটির স্বাস্থ্যপরীক্ষার জন্য তাকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে এক অমানবিক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় পরিবারকে।

  • ৫ ঘণ্টা অপেক্ষা: অভিযোগ, সেই সময় হাসপাতালে মাত্র একজন মহিলা চিকিৎসক ছিলেন এবং তিনিও একটি জরুরি অস্ত্রোপচারে (Surgery) ব্যস্ত ছিলেন। এর ফলে দীর্ঘ প্রায় ৫ ঘণ্টা ধরে শিশুটিকে নিয়ে হাসপাতালেই অপেক্ষা করতে হয়।

  • বিক্ষোভ: স্বাস্থ্যপরীক্ষায় এমন অযৌক্তিক দেরির জেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। হাসপাতালের চত্বরেই তাঁরা তীব্র বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। পরে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, তবে সাধারণ মানুষের মনে পুলিশ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এই উদাসীনতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ জমা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মাদার ডেয়ারির উল্টো পথে ‘বাংলার ডেয়ারি’! বাড়ল না দুধের মান কিন্তু এক লাফে লিটারে ৪ টাকা দাম বাড়ল সরকারি দুধের, মাথায় হাত…

গাইঘাটাকাণ্ডের ছায়া উত্তর ২৪ পরগনায়

উল্লেখ্য, এর মাত্র কয়েকদিন আগেই উত্তর ২৪ পরগনারই গাইঘাটায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য। অভিযুক্তের পুলিশ হেফাজত ও এনকাউণ্টারে মৃত্যুর সেই ঘটনা মেটার রেশ কাটতে না কাটতেই দত্তপুকুরে এহেন শিশু নিগ্রহের ঘটনায় নারী নিরাপত্তা নিয়ে ফের বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো। অভিযুক্তের কঠোরতম শাস্তির দাবি জানিয়েছে নির্যাতিতার পরিবার ও এলাকাবাসী।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন