কুশল দাশগুপ্ত, শিলিগুড়িঃ
কালীপুজোর ঠিক প্রাক্কালে উত্তরবঙ্গের চা বাগান শ্রমিকদের জন্য বড়সড় আর্থিক ও ত্রাণের প্যাকেজ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার শিলিগুড়ির প্রশাসনিক ভবন ‘উত্তরকন্যা’-য় অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে চা শ্রমিকদের প্রতি মাসে বিনামূল্যে প্রাপ্ত রেশনের চালের পরিমাণ ৩৫ কেজি থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ৫০ কেজি করার কথা ঘোষণা করা হয়। একইসঙ্গে দীপাবলি ও উৎসবের মরশুমে প্রত্যেক শ্রমিককে এককালীন ৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ বিপদের পর বিপদ নেপালে; অবতরণের সময় দুই কপ্টারের সংঘর্ষ! দুর্ঘটনায় মৃত্যু ১ পর্যটকের
১. চা শ্রমিকদের জন্য রেশনের চাল বৃদ্ধি ও আর্থিক সহায়তা
উত্তরবঙ্গের চা শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও আর্থিক সংকট দূর করতে রাজ্য সরকার বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ করেছে:
-
রেশনের চাল বৃদ্ধি: এতদিন চা শ্রমিকরা মাথাপিছু ৩৫ কেজি করে রেশনের চাল পেতেন। তা বাড়িয়ে এবার থেকে ৫০ কেজি করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে সাধারণ রেশন গ্রাহকদের ক্ষেত্রেও ভবিষ্যতে চালের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫০ কেজি করার বিষয়টি রাজ্য সরকারের সক্রিয় চিন্তাভাবনার মধ্যে রয়েছে।
-
উৎসবের বোনাস ও আর্থিক সাহায্য: কালীপুজোর আগে শ্রমিক পরিবারগুলির মুখে হাসি ফোটাতে এককালীন ৫,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২. বন্ধ চা বাগান খোলার কড়া বার্তা ও ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’
এদিনের ‘উত্তরকন্যা’ বৈঠকে উত্তরবঙ্গের সামগ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রুগ্ন ও বন্ধ চা বাগানগুলি চালু করার বিষয়ে অত্যন্ত কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
-
শ্রমমন্ত্রীকে দায়িত্ব: বৈঠকে পাশে থাকা শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং-কে উদ্দেশ্য করে রসিকতার সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনাকেই বন্ধ থাকা সমস্ত চা বাগান খুলতে হবে, সব কাজ তো আর মুখ্যমন্ত্রীর একা করলে চলবে না!”

-
জব কার্ড ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প: বন্ধ বাগানের শ্রমিকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, তাঁরা যেন দ্রুত নিজেদের ‘জব কার্ড’ প্রস্তুত রাখেন। খুব শীঘ্রই ‘প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক যোজনা’-র আওতায় সমস্ত চা শ্রমিককে অন্তর্ভুক্ত করে বড় পরিসরে কাজের সুযোগ ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুনঃ সাহিত্য ও ইতিহাসের অপূর্ব মেলবন্ধন; পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী দরিয়াপুরের কপালকুণ্ডলা মন্দির
৩. কামতাপুরী ভাষার দাবি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
এদিনের উত্তরকন্যা বৈঠককে কেন্দ্র করে পাহাড়ি ও ডুয়ার্স অঞ্চলের অন্যান্য আঞ্চলিক দাবিদাওয়াও সামনে এসেছে।
-
কামতাপুরী ভাষার স্বীকৃতি: দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী কামতাপুরী ভাষাকে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার আর্জি জানাতে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন কামতাপুরী ভাষা সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তবে সরকারি স্তরে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট বা চূড়ান্ত আশ্বাস মেলেনি।
-
পটপরিবর্তনের পর নতুন আশা: উল্লেখ্য, উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বন্ধ চা বাগান ও শ্রমিকদের দুর্দশা বরাবরই এক জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যু। অতীতে বহু বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়া শ্রমিকদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষামূলক প্রকল্পের সূচনা হলেও স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছিলেন শ্রমিকরা। রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের এই নতুন ত্রাণ প্যাকেজ ও বাগান খোলার পদক্ষেপে এখন ডুয়ার্স ও পাহাড়ের চা বলয়ে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।


