বিশেষ রাজ্য ও রাজনৈতিক সংবাদ বিশ্লেষণ প্রতিবেদন:
জনগণনার প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য সূচি বদলের জেরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে কলকাতা ও হাওড়াসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পৌরসভার ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে। প্রশাসনিক মহলের অন্দরে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে, সমস্ত নিয়ামক ও কর্মীব্যবস্থার সমীকরণ বিচার করলে কি শেষ পর্যন্ত পেছাতে চলেছে বহুকাঙ্ক্ষিত এই পুরভোট?
আরও পড়ুনঃ বন্ধ পঠনপাঠন; সোনম ওয়াংচুকের স্কুলে তালা ঝোলানোর নির্দেশ লাদাখ প্রশাসনের
১. জনগণনা ও মাধ্যমিক পরীক্ষার সূচি বদলের জট
কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনগণনার দ্বিতীয় ধাপের কাজ চলার কথা। এই কাজে রাজ্যের বিপুল সংখ্যক শিক্ষক ও সরকারি কর্মীরা সরাসরি যুক্ত থাকবেন।
-
পরীক্ষা পিছনোর প্রস্তাব: ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল ও সেনসাস কমিশনারের বিশেষ অনুরোধ এবং শিক্ষকদের ব্যস্ততার কথা মাথায় রেখে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ২০২৭ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষা ১৫ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে মার্চের গোড়ায় (২ মার্চ) শুরু করার প্রস্তাব পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য সরকারের কাছে।
-
কর্মীর সংকট: জনগণনা ও ভোটের কাজে একই সঙ্গে সরকারি কর্মী ও শিক্ষকদের ব্যবহার করতে গেলে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় টানাপোড়েন দেখা দিতে পারে। যদিও কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে জনগণনার কাজে এবার বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদেরও নিয়োগ করা যাবে, তবুও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
২. ভোটার তালিকা সংশোধন এবং পোলিং স্টেশনের পুনর্বিন্যাস
কলকাতা উত্তরের জেলা নির্বাচনী আধিকারিক তথা কলকাতা পুরসভার কমিশনারের দপ্তর সূত্রে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত সময়সূচি অনুযায়ী ভোটার তালিকার বিশেষ সংক্ষিপ্ত সংশোধন (SSR)-এর যে নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে ভোটগ্রহণের দিনক্ষণ নির্ধারণের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে:
-
২৩ নভেম্বর: খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ।
-
২৩ নভেম্বর থেকে ২২ ডিসেম্বর: খসড়া তালিকার ওপর দাবি-আপত্তি ও সংযোজন-বিয়োজনের সময়সীমা।
-
৮ জানুয়ারি: সমস্ত আপত্তি ও অভিযোগ নিষ্পত্তি।
-
১৬ জানুয়ারি ২০২৭: চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ।
এর পাশাপাশি, কলকাতার ক্ষেত্রে শেষবার ওয়ার্ড সংখ্যা ১৪৪টি থাকলেও তা বাড়িয়ে ২০৯টি করার প্রক্রিয়া (ডিলিমিটেশন ও নতুন পোলিং বুথ রিঅ্যারেঞ্জমেন্ট) চলছে। ১৩ নভেম্বরের মধ্যে পোলিং স্টেশনের পুনর্বিন্যাস সম্পন্ন করার কথা রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ অসমের গুয়াহাটির হোটেলে পাঁচ খুনে মূল অভিযুক্ত এনকাউন্টার ঘনকান্ত গগৈ
৩. পুরভোট কি তা হলে জানুয়ারির শেষে বা ফেব্রুয়ারিতে গড়াচ্ছে?
এই সমস্ত পরিসংখ্যান ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে ভোট বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নির্দিষ্ট কিছু কারণে ডিসেম্বরে ভোট হওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়:
-
১৬ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে এবং নতুন ডিলিমিটেড বুথের বিন্যাস চূড়ান্ত না করে নির্বাচন করা অসম্ভব।
-
নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকে ভোটের দিন পর্যন্ত ন্যূনতম ২৫ দিনের ব্যবধান রাখতে হয়।
-
ফলে ১৬ জানুয়ারি তালিকা প্রকাশের পর জানুয়ারি মাসের শেষে ভোট করানোর অবকাশ খুব কম। সেই কারণে ফেব্রুয়ারি মাস বা মার্চে ভোট গড়ানোর সম্ভাবনাই জোরালো হচ্ছে। বিশেষ করে মাধ্যমিক পরীক্ষা মার্চে শুরু হলে, ফেব্রুয়ারির ফ্রেমে ভোট আয়োজন করার একটা উইন্ডো তৈরি হতে পারে, যদি না জনগণনার মূল কাজের সঙ্গে তার সংঘাত বাধে।
তবে পুরভোট পিছিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এখনও পর্যন্ত রাজ্য নির্বাচন কমিশন বা সরকারের তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা, মাধ্যমিকের অফিশিয়াল সূচি এবং প্রশাসনিক ও জনগণনার কাজের চাপের ওপর নির্ভর করেই নির্ধারিত হবে আগামী কলকাতা ও হাওড়া পুরভোটের ভাগ্য।


