বিশেষ রাজ্য ও রাজনৈতিক সংবাদ প্রতিবেদন:
পরিবহণমন্ত্রী তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং এবং ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচীর মধ্যকার রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রয়েছে ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক ময়দান। এই অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার মাঝেই এবার কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে সরাসরি তোলাবাজি ও অপরাধমূলক যোগাযোগের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরব হলেন দলেরই একাংশের নেতারা। যদিও এই পুরো বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
আরও পড়ুনঃ ইন্দ্রনীল সেনের পর পুলিশি জালে প্রাক্তন টালা প্রত্যয়ের কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু
১. অর্জুন সিং ও কৌস্তভ বাগচীর দ্বন্দ্বের নেপথ্য কারণ
-
বিতর্কিত ছবি ও সংবর্ধনা: ব্যারাকপুরের সংঘাতে প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে একটি বিতর্কিত ছবি। নিহত বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লার বাবা—যিনি ছেলের হত্যাকাণ্ডের এফআইআর-এ নাম থাকা অন্যতম অভিযুক্ত উত্তম দাসের হাত থেকে সংবর্ধনা নিচ্ছিলেন, সেই একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং।
-
কৌস্তভের প্রতিবাদ: এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, মণীশ শুক্লা হত্যা মামলার অভিযুক্তরা যদি দলের নেতাদের পাশে বসে ছবি তোলে, তবে তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এর ফলে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়। এই ঘটনার পরেই কৌস্তভকে লক্ষ্য করে ‘গো ব্যাক’ ও ‘দূর হঠো’ স্লোগানও ওঠে।
২. কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে দলের একাংশের তোলাবাজির অভিযোগ
অর্জুন শিবিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতৃত্ব এবং একাংশের নেতারা প্রকাশ্য সাংবাদিক বৈঠক করে কৌস্তভ বাগচীর বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ এনেছেন:
-
সঞ্জয় যাদবের অভিযোগ: ব্যারাকপুর বিজেপির ২ নম্বর মণ্ডলের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় যাদব সরাসরি অভিযোগ করে বলেন যে, বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ফোন করে টাকা দাবি করা এবং তোলাবাজির মতো কার্যকলাপে যুক্ত। পাশাপাশি, মণীশ শুক্লা হত্যা মামলার অভিযুক্ত সুবোধ যাদবের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং জেল থেকে যোগাযোগের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলা হয়েছে। এছাড়া বিশাল জসওয়াল নামে এক ব্যক্তির চালক আগ্নেয়াস্ত্রসহ ধরা পড়ার প্রসঙ্গ টেনেও তোপ দাগা হয়েছে।
-
অহীন্দ্রনাথ বসুর মন্তব্য: ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি অহীন্দ্রনাথ বসু কটাক্ষ করে বলেন যে, একটি আর্থিক রফা করতে গিয়ে তা সফল না হওয়ায় এখন উত্তম দাসদের খারাপ বলা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘৫ মিনিটে প্রমাণ করে দেব মোদী দেশদ্রোহী’! রাহুলের বিস্ফোরক মন্তব্যে দেশ জুড়ে তোলপাড়
৩. কৌস্তভ বাগচীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা এই সমস্ত অভিযোগ এবং দলের ভেতরের কোন্দল প্রসঙ্গে বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন:
“মানুষ সবটাই জানে। যারা এগুলো করছে, দেখবেন সিনেমায় হিরো সেজে শুধু ঠোঁট নাড়ায়। গায়ক অন্য কেউ হয়, হিরো শুধু ঠোঁট নাড়ায়। এদের শুধুমাত্র ঠোঁট নড়ছে। অন্য কারও বুলি ওরা আওড়াচ্ছে।”
অন্যদিকে, দলের অন্দরের এই কোন্দল ও তোলাবাজির অভিযোগের বিষয়ে পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিং সম্পূর্ণ নীরব থেকে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। দুই নেতার এই প্রকাশ্য দ্বন্দ্ব এবং পালটা অভিযোগে ব্যারাকপুরে বিজেপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা যে গভীর সংকটে পড়েছে, তা বলাই বাহুল্য।


