Thursday, 5 November, 2026
5 November
HomeদেশFake Coin: রমরমা নকল কয়েনের বাজার; দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ৭০ কোটি টাকার...

Fake Coin: রমরমা নকল কয়েনের বাজার; দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ৭০ কোটি টাকার ২০ টাকার জাল কয়েন

কয়েন জালিয়াতির এই নতুন প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ জাতীয় ও অপরাধ সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:

নোটবন্দির এক দশক পেরিয়ে গেলেও জাল নোট ও কয়েনের কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। কাগজের জালিয়াতির পাশাপাশি বর্তমানে দেশের একাধিক রাজ্যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে রমরমিয়ে চলছে নকল কয়েন তৈরির চক্র。 সম্প্রতি দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা (Crime Branch) ১ লক্ষ টাকা মূল্যের নকল ২০ টাকার কয়েন উদ্ধার করেছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তে উঠে এসেছে যে, এই চক্রের জাল কেবল দিল্লি বা হরিয়ানাতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং দেশের একাধিক রাজ্যে এর শিকড় বিস্তার লাভ করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ‘৫ মিনিটে প্রমাণ করে দেব মোদী দেশদ্রোহী’! রাহুলের বিস্ফোরক মন্তব্যে দেশ জুড়ে তোলপাড়

১. দেশজুড়ে জাল কয়েনের কারবার ও বিস্তার

  • ছড়িয়ে থাকা জাল কয়েনের পরিমাণ: প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, হরিয়ানা, দিল্লি, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং ঝাড়খণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতে নকল কয়েন তৈরির অবৈধ কারখানাগুলি সক্রিয় রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, অপরাধীরা ইতিমধ্যেই বাজারে কমবেশি ৭০ কোটি টাকা মূল্যের প্রায় ৩ কোটি ৫০ লক্ষ নকল ২০ টাকার কয়েন ছড়িয়ে দিয়েছে।

  • সোনীপত থেকে সাহরানপুর কারখানা: হরিয়ানার সোনীপতের একটি কারখানায় গত ১০ মাস ধরে স্ক্রু-ড্রাইভার তৈরির আড়ালে অত্যন্ত গোপনে এই নকল ২০ টাকার কয়েন তৈরি হচ্ছিল। পরবর্তীতে পুলিশের তাড়া খেয়ে গত ১৩ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের সাহরানপুরে এই চক্রের সন্ধান মেলে। সেখান থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি ছয়টি ভারী যন্ত্র ও লক্ষাধিক টাকার নকল কয়েন উদ্ধার করে পুলিশ।

  • জাল নোটের পরিসংখ্যান: ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কাগজভিত্তিক নোট তৈরির পাশাপাশি ভারত সরকার মুম্বই, কলকাতা, নয়ডা ও হায়দরাবাদের টাঁকশালে ধাতব কয়েন প্রস্তুত করে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যেখানে ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৩৯৬টি জাল নোট উদ্ধার হয়েছিল, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার ৭৪৬টিতে। এর পাশাপাশি কয়েন জালিয়াতির এই নতুন প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২. যেভাবে তৈরি হতো নকল ২০ টাকার কয়েন

  • উপাদান ও যন্ত্রাংশ: দিল্লির একটি কারখানা থেকে অ্যালুমিনিয়াম, তামা এবং নিকেলের মিশ্রণে তৈরি মুদ্রার আকারের রিং সংগ্রহ করা হতো। এরপর বিশেষ অর্ডারের মাধ্যমে আনা ২০ টাকার কয়েনের আদলে তৈরি ছাঁচ ও ভারী যন্ত্রের সাহায্যে রিংগুলিতে চাপ দিয়ে কয়েনের প্রাথমিক রূপ দেওয়া হতো।

  • মসৃণ ও নিখুঁত করার প্রক্রিয়া: বিভিন্ন ঘষার পাথর, ব্রাশ, ফাইল, হাতুড়ি এবং ডাই-পলিশিং মেশিনের সাহায্যে কয়েনগুলিকে ঘষামাজা করে উজ্জ্বল ও নিখুঁত করে তোলা হতো। পুলিশি অভিযানে বহু চিহ্নযুক্ত ও চিহ্নহীন ডাই (Die), হাতুড়ি, স্প্যানার এবং অন্যান্য ধাতব ঘষার সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

  • বাজারজাতকরণের কৌশল: অভিযুক্তরা প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার নকল কয়েন তৈরি করত। ১০০টি করে প্যাকেট বানিয়ে ছোট শহরের টোল প্লাজা, মদের দোকান এবং খুচরো দোকানের মাধ্যমে তা সাধারণ বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এই কাজে কিছু অল্পবয়সি ছেলেমেয়েকে ব্যবহার করা হলেও তারা নিজেরাও জানত না যে তারা জাল কয়েন ছড়াচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ইন্দ্রনীল সেনের পর পুলিশি জালে প্রাক্তন টালা প্রত্যয়ের কর্তা ধ্রুবজ্যোতি বসু

৩. আসল ও নকল ২০ টাকার কয়েন চেনার উপায়

সাধারণ মানুষ সাধারণত বড় অঙ্কের নোট খুঁটিয়ে দেখলেও খুচরো কয়েন নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না। অপরাধীরা সেই সুযোগটিই গ্রহণ করছে। তবে একটু সতর্ক হলেই আসল ও নকল ২০ টাকার কয়েন চিনে নেওয়া সম্ভব:

  • আকার ও কোণ: আসল ২০ টাকার কয়েন সম্পূর্ণ গোল হয় না, এর চারপাশে ১২টি কোণ থাকে। অন্যদিকে, অধিকাংশ নকল কয়েন পুরোপুরি গোলাকার হয়।

  • কিনারা: আসল কয়েনের কিনারা সম্পূর্ণ মসৃণ হয় এবং বাইরের দিকে কোনো খাঁজ বা দাগ থাকে না।

  • ধাতব মিশ্রণ ও সংযোগস্থল: আসল কয়েনটি দ্বি-ধাতু (Two-metal) দিয়ে তৈরি—বাইরের বলয়টি নিকেল সিলভার এবং ভিতরের অংশটি নিকেল ব্রাস দিয়ে গঠিত। এর সংযোগস্থল অত্যন্ত নিখুঁত ও মসৃণ হয়। কিন্তু নকল কয়েনে এই সংযোগস্থলটি অমসৃণ বা অসামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে।

  • নকশা ও খোদাই: আসল কয়েনের উল্টো পিঠে ভারতীয় শস্যের নকশার পাশাপাশি হিন্দি ও ইংরেজিতে কয়েনের মান লেখা থাকে। সামনের পিঠে অশোক স্তম্ভের প্রতীক এবং স্পষ্ট অক্ষরে ‘সত্যমেব জয়তে’ খোদাই করা থাকে।

  • ওজন ও ঔজ্জ্বল্য: আসল ২০ টাকার কয়েনের ওজন ৮.৫৪ গ্রাম এবং ব্যাস ২৭ মিলিমিটার। নকল কয়েনগুলি ওজনে তুলনামূলক হালকা হতে পারে এবং সেগুলির ঔজ্জ্বল্য বা চকচকে ভাব অনেক সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক হয়।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন