Thursday, 5 November, 2026
5 November
Homeউত্তরবঙ্গBardhaman: স্বর্ণালংকার নয়, হাজার শোলার চাঁদমালায় সুসজ্জিত হন উখরার তিন শতাব্দের প্রাচীন...

Bardhaman: স্বর্ণালংকার নয়, হাজার শোলার চাঁদমালায় সুসজ্জিত হন উখরার তিন শতাব্দের প্রাচীন ‘সন্ন্যাসী কালী’

বিপুল পরিমাণ চাঁদমালা পরানো হয় যে বিগ্রহের আকার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশেষ আঞ্চলিক ও ঐতিহ্য সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:

পশ্চিম বর্ধমান জেলার অত্যন্ত বর্ধিষ্ণু জনপদ উখরায় চিরাচরিত ধারা বজায় রেখে অনুষ্ঠিত হয় অত্যন্ত জাগ্রতা শ্রীশ্রী ৺সন্ন্যাসী কালীমাতার বিশেষ বাৎসরিক আরাধনা। ধাতু বা স্বর্ণালংকারের আধিক্য নয়, এই মণ্ডপের প্রধান আকর্ষণ দেবী বিগ্রহের অনন্য সাজসজ্জা। ভক্তদের দেওয়া শত শত শোলার চাঁদমালায় দেবী অঙ্গ সুসজ্জিত হয়ে ওঠার পর প্রতিমা বিশাল আকার ধারণ করে, যা দেখতে দীপান্বিতা অমাবস্যার নিশিতে উপচে পড়ে অগণিত পুণ্যার্থীর ভিড়।

আরও পড়ুনঃ  বাঙালির আত্মিক বন্ধন; বাংলার প্রথম দক্ষিণাকালী

১. সোনা নয়, ভক্তদের মানতের প্রধান উপকরণ শোলার ‘চাঁদমালা’

  • অনন্য সাজসজ্জা ও বিশালাকার রূপ: উখরার ঐতিহাসিক সন্ন্যাসী কালীতলায় সোনার গয়না এবং অন্যান্য মানতের উপকরণ গৌণ। এখানে ভক্তদের আস্থার মূল প্রতীক হলো শোলার চাঁদমালা। দীপান্বিতার সন্ধ্যায় আনুমানিক প্রায় এক হাজার শোলার চাঁদমালা এবং প্রয়োজনীয় অলঙ্কারে দেবীকে সুসজ্জিত করে নিজ মন্দিরের আসনবেদীতে তোলা হয়। এত বিপুল পরিমাণ চাঁদমালা পরানো হয় যে বিগ্রহের আকার কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়।

  • নিশিরাত্রে মহাপূজা: মায়ের অঙ্গসজ্জা সম্পূর্ণ হওয়ার পরই মহানিশায় শুরু হয় শাস্ত্রীয় মহাপূজা। ঐতিহ্য ও বিশ্বাস অনুযায়ী, মা সন্ন্যাসী কালী অতীব জাগ্রতা—সাধক ও ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূরণ করতে দেবী কখনোই কাউকেই খালি হাতে ফেরান না।

২. তিন শতাব্দের ইতিহাস ও ‘সন্ন্যাসী কালী’ নামকরণের উৎস

  • প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট: আজ থেকে আনুমানিক প্রায় ৩০০ বছর (তিন শতাব্দী) আগে অত্যন্ত নিষ্ঠাবান সাধক সন্ন্যাসী মহারাজ প্রেমপুরী বাবাজী দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই স্থানে বিগ্রহ প্রতিষ্ঠা করেন এবং পূজা শুরু করেন। এক পরম সন্ন্যাসী কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ও পুজিত হওয়াতেই কালক্রমে মায়ের নাম হয় “সন্ন্যাসী কালী”।

  • প্রাচীন বকুল বৃক্ষ ও আসনবেদী: উখড়া গ্রামে দেবীর মূল বেদীটি পরিবেষ্টিত করে রয়েছে এক অতিপ্রাচীন বকুল বৃক্ষ। এই বকুল গাছের তলেই রয়েছে মায়ের প্রধান আসনবেদী। পূর্বেকার পুরনো মন্দির ভেঙে বর্তমানে সেখানে একটি অনিন্দ্যসুন্দর নবনির্মিত মন্দির গড়ে উঠেছে।

আরও পড়ুনঃ  সাহিত্য ও ইতিহাসের অপূর্ব মেলবন্ধন; পূর্ব মেদিনীপুরের ঐতিহ্যবাহী দরিয়াপুরের কপালকুণ্ডলা মন্দির

৩. ভাতৃদ্বিতীয়া, গ্রাম প্রদক্ষিণ ও সার্বজনীন উৎসব

  • পূজা ও বিসর্জন পর্ব: দীপান্বিতার পুরো রাত ধরে মহাপূজা চলার পর ভোরে দেবীঘট বিসর্জন দেওয়া হয়। তবে মা মন্দিরেই অবস্থান করেন। এরপর ভাত্রীদ্বিতীয়ার দিন রাতে প্রথা অনুযায়ী গ্রামবাসীরা নিজের কাঁধে করে দেবী বিগ্রহকে সারা গ্রাম ঘুরিয়ে প্রদক্ষিণ করান। গ্রাম ভ্রমণের পরই সম্পন্ন হয় প্রতিমা নিরঞ্জন।

  • ঐক্যের উৎসব ও জনসমাগম: সন্ন্যাসী কালীর পূজাকে কেন্দ্র করে উখড়ায় কয়েক দিন ধরে বসে বিশাল মেলা। নিখরচায় ভোগ বিতরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নানা সেবামূলক কাজ চলে। জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সমগ্র উখড়াবাসী এই পুজো ও বিসর্জনে অংশ নেন। শুধু পশ্চিম বর্ধমান নয়, পার্শ্ববর্তী জেলা এবং অন্য রাজ্য থেকেও হাজার হাজার ভক্ত এই অলৌকিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে হাজির হন।

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন