সদ্য প্রকাশিত ২০১৬ সালের নিয়োগ প্যানেল সংক্রান্ত পুনর্বিবেচিত গ্রুপ-ডি পরীক্ষার ফলাফলে চরম দুশ্চিন্তা ও অনিশ্চয়তার মুখে পড়লেন ১ হাজারের বেশি প্রবীণ শিক্ষাকর্মী। বিগত সরকারের আমলে হওয়া দুর্নীতি ও বেনিয়মের জেরে সমগ্র প্যানেল বাতিল হওয়ার পর, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে ও নতুন পরীক্ষা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজেদের চাকরি বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছিলেন তাঁরা। কিন্তু সোমবার প্রকাশিত ফলাফলের পর দেখা যায়, উচ্চ ‘কাট-অফ মার্কস’-এর প্রতিযোগিতায় নতুনদের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে দৌড় থেকে চিরতরে ছিটকে গিয়েছেন এই যোগ্য শিক্ষাকর্মীরা।
আরও পড়ুনঃ যোগাযোগের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা! জাপান থেকে ভারতে পৌঁছাল প্রথম বুলেট ট্রেন
১. গ্রুপ-ডি পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও উচ্চ কাট-অফ
-
শূন্যপদ ও ডাক পাওয়া প্রার্থী: প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গ্রুপ-ডি পদে মোট শূন্যপদের সংখ্যা ৫,৪৮৮টি। ইন্টারভিউয়ের জন্য ডাকা হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার প্রার্থীকে।
-
অভিজ্ঞতার নম্বরেও মিলল না পারাপার: শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার মতো শিক্ষাকর্মীদের ক্ষেত্রেও ইন্টারভিউয়ের আগেই অভিজ্ঞতার জন্য নির্ধারিত বোনাস নম্বর যোগ করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও প্রতিটি জোনে কাট-অফ নম্বর অস্বাভাবিক বেশি থাকায় ২০১৬ সালে চাকরি পাওয়া ১ হাজারের বেশি শিক্ষাকর্মী ইন্টারভিউ তালিকার বাইরে রয়ে গেলেন। কেবল এই অভিজ্ঞ শিক্ষাকর্মীরাই নন, ভালো নম্বর পেয়েও বেশ কিছু নতুন ‘যোগ্য’ বা ফ্রেশার প্রার্থীও তালিকায় ঠাঁই পাননি বলে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
২. ১১ বছর পর শূন্য হাত: চরম সংকটে বিকল্প পেশার খোঁজ
-
বয়সসীমার বাধা: ২০১৬ সালে চাকরি পাওয়ার পর প্রায় ১১ বছর পার হয়ে যাওয়ায় এই শিক্ষাকর্মীদের অধিকাংশেরই সরকারি চাকরির নির্ধারিত বয়সসীমা পেরিয়ে গিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বসার সুযোগও তাঁদের হাতছাড়া হলো।
-
আর্থিক বিপর্যয়: গত প্রায় দুই বছর ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ থাকার পাশাপাশি তাঁদের বেতনও বন্ধ ছিল। ফলে শেষ সম্বল হিসেবে এই নতুন পরীক্ষার ওপর ভরসা রাখলেও রেজাল্ট প্রকাশের পর জীবনের চরম অনিশ্চয়তায় দাঁড়িয়ে বিকল্প পেশার সন্ধান করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা।
আরও পড়ুনঃ স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য AI টুলস বন্ধ করল গুগল
৩. ভুক্তভোগী ও শিক্ষক সমাজের প্রতিক্রিয়া
-
চাকরিহারা শিক্ষাকর্মীর বক্তব্য: চাকরিহারা শিক্ষাকর্মী অমিত মণ্ডল ক্ষোভপ্রকাশ করে বলেন, “আমরা সরকারের কাছে বারবার গিয়েছিলাম যোগ্যদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার আর্জি নিয়ে, কিন্তু তা করা হয়নি। পরীক্ষা নেওয়া হলো এবং প্রথম রেজাল্টেই দেখা গেল ১,০০০ জন যোগ্য বাদ পড়ে গেলেন। এখনও একাধিক ধাপ বাকি, শেষে দেখা যাবে হয়তো মাত্র ৫ বা ১০ শতাংশ যোগ্য শিক্ষাকর্মী চাকরি বাঁচাতে পেরেছেন।”
-
শিক্ষক সমাজের সহানুভূতি: শিক্ষক চিন্ময় মণ্ডল ঘটনার দুর্ভাগ্যজনক দিকটি তুলে ধরে জানান, “দু’বছর ধরে স্কুলে না যাওয়া এবং বেতন বন্ধ থাকার পর নতুন করে পরীক্ষায় বসে চাকরি বাঁচানোর এই লড়াইটা অত্যন্ত কঠিন ছিল। শিক্ষাকর্মীরা মূলত দাপ্তরিক ও ব্যবহারিক কাজে ব্যস্ত থাকেন, বইমুখী পড়াশোনার বাইরে থাকা তাঁদের জন্য কাট-অফ পার করা কষ্টসাধ্য। যেসব যোগ্য কর্মী ছিটকে গেলেন, সরকারের উচিত মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাঁদের জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা করা।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, প্রশাসনিক ও নীতিগত ভুলের খেসারত দিতে গিয়ে এক লহমায় জীবন ও জীবিকা হারিয়ে বিপন্ন বোধ করছেন এই এক হাজারেরও বেশি পরিবার।


