সাতসকালে ফের অ্যাকশনে ইডি। কলকাতার একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সোনা পাপ্পু জমি জালিয়াতি মামলায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, সোনা পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে লেনদেন সম্পর্কিত একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছে ইডি। সেই তথ্য হাতে পাওয়ার পরই আজ সকাল থেকে বিভিন্ন জায়গায় চলছে ইডি অভিযান।
আরও পড়ুনঃ বাংলাতে থাকছে কেন্দ্রীয় বাহিনী; রাজ্যের আবেদনে দ্রুত সাড়া
শহরের একাধিক জায়গায় ইডির তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে আট থেকে ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত যা খবর, পার্ক স্ট্রিট, বালিগঞ্জ, ভবানীপুরে পৌঁছে গিয়েছে ইডির টিম। ভবানীপুরে আশুবিশ্বাস রোডে প্রোমোটার অতুল কাঠারিয়ার বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি। বাড়ি ঘিরে ফেলেছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। জানা গিয়েছে, আতুল কাঠারিয়ার সঙ্গে সোনা পাপ্পুর লিঙ্ক ছিল বলে ইডি সূত্রে খবর।
এছাড়া, বালিগঞ্জ প্লেসের এক বিলাবহুল বাড়িতে পৌঁছেছে ইডির আরও একটা টিম। সেখানেও তল্লাশি অভিযান চলছে। অন্যদিকে, ৪, রয়েড স্ট্রিট, কলকাতা ৭০০১৬ ঠিকানায় একটি ক্যাফেতেও হানা দিয়েছে ইডি। এছাড়া, জানা গিয়েছে, নিউটাউনে যে CRPF ক্যাম্প রয়েছে, সেখান থেকে আরও জওয়ানদের ডেকে পাঠানো হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে গিয়েছেন। এদিকে, শুক্রবার সাত সকালে মুর্শিদাবাদের কান্দিতেও পৌঁছেছেন ইডি আধিকারিকরা। জমি সংক্রান্ত মামলায় ইডির হেফাজতে রয়েছেন কালীঘাট থানার প্রাক্তন আইসি তথা ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। এবার কান্দিতে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়িতেই তল্লাশি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা।
আরও পড়ুনঃ ২২ বছরের অপেক্ষা শেষ, জ্বলল মশাল; ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল
সোনা পাপ্পুর জমি জালিয়াতি মামলায় ইডির এই তল্লাশি অভিযান বলে জানা গিয়েছে। ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর লেনদেন সম্পর্কিত বেশ কিছু তথ্য পায় তারা। ইডি সূত্রে খবর, একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার যেমন প্রক্রিয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সেই সমস্ত টাকা একাধিক প্রভাবশালীদের কাছেও পৌঁছে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইডি সূত্রে দাবি, সেই সমস্ত প্রভাবশালীদের মাধ্যমে একাধিক সংস্থায় টাকা খাটানো হয়েছিল। এই তথ্যগুলি হাতে আসার পরই ইডির অভিযান শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৮ মে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি থেকে এলাকা দখল, বেআইনি নির্মাণ থেকে গুণ্ডাগিরি, একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ফেব্রুয়ারি থেকেই খোঁজ চলছিল তাঁর। একাধিকবার তাঁকে তলবও করে ইডি। কিন্তু, বেপাত্তা ছিলেন সোনা পাপ্পু ওরফে বিশ্বজিত পোদ্দার। তিন মাস নিজেই ইডি দফতরে যান। সেখানেই ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে ইডি।



