শুভজিৎ মিত্র,কলকাতা:
পশ্চিম এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার জেরে,বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে আগুন।কেন্দ্রীয় সরকার ক্রমাগত জ্বালানি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে। এমতাবস্থায় দাঁড়িয়ে,বিকল্প শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এখন কেবল শৌখিনতা নয়,বরং সময়ের দাবি।এই প্রেক্ষাপটে,পশ্চিমবঙ্গের বিশেষ করে কলকাতার পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। পরিবেশবান্ধব যান হিসেবে ‘টোটো’ গ্রাম ও মফস্বলে জনপ্রিয়তা পেলেও,মহানগরের রাজপথে বাস ও অটোর দাপট এবং তাদের দূষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে বারবার।কিন্তু,সমাধান কি আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে? শতাব্দী প্রাচীন কলকাতার ট্রাম কি তবে ব্রাত্যই থেকে যাবে?
অস্তিত্বের সংকটে ঐতিহ্যের ট্রাম!
কলকাতা একসময়ে,”ট্রামের শহর” হিসেবে পরিচিত ছিল। অথচ,আজ সেই ট্রাম ডিপোগুলোর দশা কঙ্কালসার। রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং সরকারি উদাসীনতায় ধুঁকছে এই পরিবেশবান্ধব যানটি।যেখানে গোটা বিশ্ব এখন দূষণমুক্ত ইলেকট্রিক মোবিলিটির দিকে ঝুঁকছে, সেখানে কলকাতার ট্রাম লাইনগুলোতে তৃণমূল সরকার পিচ ফেলে একের পর এক বন্ধ করে দিয়েছে এই ট্রাম পরিষেবা। বিশেষজ্ঞদের মতে,”নতুন সরকার যদি ট্রাম পুনরুজ্জীবনে সদর্থক পদক্ষেপ নেন,তবে এটি শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে।”
কেন ট্রামই একমাত্র সেরা বিকল্প?
বাস বা অটোর তুলনায় ট্রামের ভাড়া যথেষ্ট কম।মূল্যবৃদ্ধির বাজারে,মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের পকেটের চাপ কমাতে এর চেয়ে বড় হাতিয়ার আর নেই। ট্রাম সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত,ফলে এতে কার্বন নিঃসরণের কোনো বালাই নেই।পশ্চিম এশিয়ার তেলের সংকটে এটি একটি শক্তিশালী দেশীয় বিকল্প।তাছাড়া,কলকাতা শহরে বাস ও অটোর রেষারেষি নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।ট্রাম নির্দিষ্ট ট্র্যাকে চলায় এই রেষারেষি ও পথ দুর্ঘটনার ঝুঁকি প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।
আরও পড়ুনঃ বঙ্গে শুভেন্দু-সরকার! গা জ্বলছে ওপার বাংলার নেতা নাহিদের?
পথের বাধা ও ফুটপাত দখল!
শহরের পরিবহন ব্যবস্থার আর একটি বড় ক্ষত হলো,অবৈধ পার্কিং। রাস্তার দু-ধারে সারিবদ্ধ ভাবে,গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকার ফলে রাস্তা সরু হয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে,ট্রামের গতিপথেও।এর পাশাপাশি হকার ও অবৈধ পার্কিংয়ের ফলে,সাধারণ মানুষ ফুটপাত ব্যবহার করতে পারছেন না।ফলে,একপ্রকার বাধ্য হয়েই তাদের মূল রাস্তায় হাঁটতে হচ্ছে। যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।
ভবিষ্যতের দিশা!
পরিবহন বিশেষজ্ঞদের মতে,’কেবল টোটো দিয়ে মহানগরের ট্রাফিক সামলানো অসম্ভব।’ ট্রামকে আধুনিকীকরণ করে যদি নতুন কোচ এবং উন্নত প্রযুক্তি আনা যায়। তবেই তা বাস ও অটোর বিকল্প হয়ে উঠতে পারে। ট্রাম ডিপোগুলোকে সংস্কার করে,সেখানে আধুনিক ‘চার্জিং হাব’ বা ‘বাণিজ্যিক কেন্দ্র গড়ে তোলা সম্ভব।”
শহরবাসী এখন তাকিয়ে নবনির্বাচিত সরকারের দিকে। কারণ,জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় এবং পরিবেশ বাঁচাতে ট্রাম কি আবার তার পুরনো গৌরব ফিরে পাবে? নাকি ধুলোবালি আর জং ধরা লাইনের নিচেই চাপা পড়ে যাবে,কলকাতার এই নীল-সাদা ঐতিহ্য? উত্তরটা সময়ের গর্ভে থাকলেও,সাধারণ মানুষের দাবি স্পষ্ট— “পরিবেশ বাঁচুক, বাঁচুক ট্রাম।“


