Monday, 15 June, 2026
15 June
HomeখেলাFIFA: ভিনিসিয়াসের দুরন্ত গোলেও মরক্কোর কাছে আটকে গেল ব্রাজ়িল

FIFA: ভিনিসিয়াসের দুরন্ত গোলেও মরক্কোর কাছে আটকে গেল ব্রাজ়িল

গত বারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল মরক্কো। আফ্রিকার শক্তিধর দেশ হিসাবে উঠে এসেছিল তারা।

অনেক কম খরচে ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং, ব্যানার ডিজাইনিং, ওয়েবসাইট ডিজাইনিং এবং মার্কেটিং এর সমস্ত রকম সার্ভিস পান আমাদের থেকে। আমাদের (বঙ্গবার্তার) উদ্যোগ - BB Tech Support. যোগাযোগ - +91 9836137343.

বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই পয়েন্ট নষ্ট ব্রাজ়‌িলের। নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মরক্কোর কাছে আটকে গেল তারা। ১-১ ফলে শেষ হয়েছে ম্যাচ। ইসমাইল সাইবারি ২১ মিনিটে এগিয়ে দিয়েছিলেন মরক্কোকে। ৩২ মিনিটে গোল শোধ করেন ভিনিসিয়াস। তবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ ব্রাজ়িলের খেলার দেখে এটা অন্তত বোঝা গিয়েছে, ট্রফির রাস্তা অনেক কঠিন। নিজেদের খেলায় প্রভূত উন্নতি না করলে এই ব্রাজ়িলের ট্রফির স্বপ্ন না দেখাই ভাল। দ্বিতীয়ার্ধে পাল্টে যাওয়া ব্রাজ়িলের খেলা আশা জাগিয়েছে ঠিকই। কিন্তু মরক্কোর চেয়েও অনেক কঠিন দলের বিরুদ্ধে খেলতে হবে ব্রাজ়িলকে। স্পেন, ফ্রান্সের সামনে পড়লে এই ব্রাজ়িল কী করবে, তা ভেবে শিউরে উঠতে পারেন সমর্থকেরা।

ম্যাচ শুরু হওয়ার পর প্রথম ১৫ মিনিট দেখে ব্রাজ়িল সমর্থকেরা নিশ্চিত ভাবেই চোখ কচলেছেন একাধিক বার। বুঝতে কষ্ট হচ্ছিল, হলুদ জার্সি পরে ব্রাজ়িলই নেমেছে তো, না কি ভুল করে ভেনেজুয়েলাকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে! মারকুইনহোস, কাসেমিরো, লুকাস পাকুয়েতা তখন যেন প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন যে, কে কতটা খারাপ খেলতে পারেন। মনে হচ্ছিল কারও সঙ্গে কারও বোঝাপড়া নেই। হঠাৎ করেই ফুটবল খেলতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রাজ়িলের এই দুর্বলতা বুঝতে সময় লাগেনি মরক্কোর। তাই শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় বইয়ে দেয় তারা। ডান দিক, বাঁ দিক, মাঝমাঠ— মাঠের প্রায় সব জায়গাতেই তখন লাল জার্সির দাপট। ব্রাজ়িলের ফুটবলারেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন। বুঝতেই পারছিলেন না কী ভাবে আটকানো যায় এই মরক্কোকে। ম্যাচের শুরু থেকে ড্রাম বাজানো ব্রাজ়িলীয় সমর্থকেরা তখন নিউ ইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে নিস্তব্ধ। ২১ মিনিটে মরক্কোর ইসমাইল সাইবারি গোল করার সময় ব্রাজ়িলের রক্ষণ থমকে গিয়েছিল। ব্রাহিম দিয়াজ়ের পাস পেয়ে ব্রাজ়িলের দুই ডিফেন্ডারকে ঘাড়ের কাছে নিয়ে যে গোল সাইবারি করলেন, তা শিক্ষানবিশ ফুটবলারদের কাছে ‘ফিনিশিং’য়ের আদর্শ উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বকাপে আটকে গেল কানাডা; দাপট থাকলেও সুযোগ নষ্টের খেসারত

গোল হজম করার আগেই ব্রাজ়িলের খেলায় কিছুটা বদল এসেছিল। প্রথম ১৫ মিনিটে যে মিস পাসের ছড়াছড়ি, দিশাহীন ফুটবল তারা খেলছিল, তা থেকে সরে এসে অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়েছিল খেলা। গোল খাওয়ার পরেও তারা খেলা পাল্টায়নি। তারই ফসল ভিনিসিয়াসের গোল। বাঁ দিকে প্রায় কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে বল পেয়েছিলেন। কাট করে ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে ডান পায়ে যে শটে গোল করলেন, তা অনেক দিন মনে থেকে যেতে বাধ্য। ভিনিসিয়াসের আসল রূপ রিয়াল মাদ্রিদে দেখতে পাওয়া যায়, ব্রাজ়‌িলে নয়— এমন একটা অভিযোগ দীর্ঘ দিন ধরেই রয়েছে। শনিবারের পর তা কাটতে বাধ্য। তবে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে তিনি রোজ রোজ দলকে টানতে পারবেন না, এটাও বুঝতে হবে ব্রাজ়‌িলকে।

যে রক্ষণে কাফু, রবার্তো কার্লোস, থিয়াগো সিলভারা খেলে গিয়েছেন, সেই রক্ষণ বিশ্বকাপে ব্রাজ়িলের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দেখাতে পারে। ব্রাজ়িলের দুই সেন্টার ব্যাক মারকুইনহোস এবং গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস কিছু দিন আগেই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে একে অপরের বিরুদ্ধে খেলেছিলেন।

দু’জনেই ক্লাবের হয়ে ভাল ছন্দে ছিলেন। কিন্তু দেশের জার্সিতে বোঝাপড়া এখনও গড়ে ওঠেনি। ফলে সাইবারির গোলের সময় দু’জনেই অনেকটা উপরে এসেছিলেন। একে অপরকে সতর্ক করেননি। দ্রুত নীচে নামতেও পারেননি। ম্যাচের মাঝেও বেশ কয়েক বার বোঝাপড়ার অভাব লক্ষ করা গিয়েছে।

ব্রাজ়িলের এই দলের গড় বয়স প্রায় ৩০-এর কাছাকাছি। বিশ্বকাপে এত বেশি বয়সি দল নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে খেলেনি তারা। এ কারণে তাদের ‘ড্যাডিজ় আর্মি’ও বলা হচ্ছে। সেই আর্মিরই একজন সদস্য কাসেমিরো। ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে মরসুম মোটামুটি কেটেছে। কিন্তু দেশের জার্সিতে এ দিন পুরোপুরি বর্ণহীন কাসেমিরো। এতটাই খারাপ খেললেন যে বিরতির পরেই তুলে নিতে হল কার্লো আনচেলোত্তিকে। নামানো হল ফ্যাবিনহোকে, যাঁর বয়সও ৩২। ফলে মাঝমাঠে তরুণ রক্তের অভাব রয়েছে ব্রাজ়িল দলে। কাসেমিরো ছন্দে না থাকায় এবং পাকুয়েতা ভুল ভাল খেলতে থাকায় একাই তিন জনের দায়িত্ব নিতে হয়েছে ব্রুনো গিমারায়েসকে। খুব খারাপ খেলেননি তিনি। তবে পরের ম্যাচগুলিতে কী হবে সেটাই দেখার।

আরও পড়ুনঃ তিনটে লাল কার্ড! চর্চায় রেফারি; উদ্বোধনী ম্যাচে মন ভরাতে পারল না কোনও দলের খেলাই

এই ব্রাজ়িলের হয়েই খেলে গিয়েছেন রোনাল্ডো। এই ব্রাজ়িলের হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি গোল করেছেন রিভাল্ডো। সেই ব্রাজ়িল এখন এতটাই স্ট্রাইকারের অভাবে ভুগছে যে ইগর থিয়াগোর মতো মধ্যমানের ফুটবলারকে স্ট্রাইকার হিসাবে খেলাতে হচ্ছে। আনচেলোত্তির হাতে বিকল্পও কম। ফলে অত্যন্ত খারাপ খেলা সত্ত্বেও তাঁকে মাঠে রেখে দিতে হত প্রায় ৭০ মিনিট পর্যন্ত। প্রথমার্ধের শুরুতেই একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করেন। তার পর তাঁকে দেখে বোঝাই যায়নি মাঠে কেন আছেন, কী করতে আছেন। গোটা পাঁচেকের বেশি বার বল পায়ে লাগাননি। সারা ক্ষণ শুধু বিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পিছনে ছুটে গেলেন। দ্বিতীয়ার্ধে লুইস হেনরিকের জায়গায় এনদ্রিককেও নামাতে পারতেন আনচেলোত্তি।

গত বারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল মরক্কো। আফ্রিকার শক্তিধর দেশ হিসাবে উঠে এসেছিল তারা। চার বছর পরের এই মরক্কো দল আগের চেয়েও ভাল। অনেকেরই গত বিশ্বকাপে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে নতুন যাঁরা এসেছেন তাঁরাও মানিয়ে নিয়েছেন। কয়েক মাস আগে আফ্রিকার কাপ অফ নেশন্‌স জয় নিয়ে অনেক বিতর্ক হয়েছে। তবে মরক্কো বুঝিয়েছে, এ বারও তারাই আফ্রিকার সেরা দল। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্রাজ়িলের ঠিক নীচেই রয়েছে তারা। আশরফ হাকিমি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন দলকে। সাইবারি, ব্রাহিম, আয়নাউই, বোউদ্দাদিরাও কারও থেকে কম যান না। ব্রাজ়িলকে এ দিন অনেকটা সময় তটস্থ করে রেখেছিল তারা। শেষের দিকেও মরণকামড় দেওয়ার একটা চেষ্টা করেছিল। গোল হয়নি সেটা দুর্ভাগ্যের।

 

এই মুহূর্তে

আরও পড়ুন