বিশেষ প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি:
সোমবার সকাল থেকেই রাজধানী দিল্লি ও তার আশেপাশের এলাকায় শুরু হওয়া ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টির জেরে তীব্র জলজট ও বিমান চলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে না পেরে অন্তত ১৫টি বিমানকে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে রাজধানীর মূল সড়ক ও নিচু এলাকাগুলোতে জল জমে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ কলিকাতা হাইকোর্টের সবুজ সংকেত; বিসি রায় মার্কেট খালি করার নির্দেশ
বিমান চলাচলে প্রভাব
খারাপ আবহাওয়া ও বজ্রঝড়ের কারণে ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা ১৫টি ডাইভার্টেড বিমানের গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়েছে:
-
জয়পুর: ১২টি বিমানকে রাজস্থানের জয়পুরে পাঠানো হয়েছে।
-
চণ্ডীগড়: ২টি বিমানকে চণ্ডীগড়ে অবতরণ করানো হয়।
-
লখনউ: ১টি বিমানকে উত্তরপ্রদেশের লখনউতে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ এবার রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিতে চলেছেন মমতা? বিদ্রোহের আবহে বড় বার্তা তৃণমূল সুপ্রিমোর
বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও আইএমডি (IMD)-র সতর্কতা
-
বৃষ্টির পরিসংখ্যান: সোমবার সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত দিল্লির বিভিন্ন স্থানে ১৮ থেকে ২৮ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ দিল্লির ছত্তরপুরে সর্বাধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে।
-
চলতি মাসের রেকর্ড: গত ২৪ আগস্ট পর্যন্ত দিল্লির সাফদারজং আবহাওয়া কেন্দ্রে আগস্টের মোট বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৪৬.২ মিলিমিটার। যা বিগত ১২টি বৃষ্টির দিনের গড় হিসেব অনুযায়ী এ মাসের স্বাভাবিক দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতকে (২২৬.৮ মিমি) ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছে।
-
বিগত বছরের তুলনা: চলতি বছরের ৮ আগস্ট এই মরশুমের সবচেয়ে ভারী বৃষ্টি (৯৮.৭ মিমি) দেখলেও, সামগ্রিক বিচারে ২০২৪ (৩৯০.৩ মিমি) এবং ২০২৫ (৪০০.৮ মিমি) সালের আগস্টের তুলনায় এবার বৃষ্টির মোট পরিমাণ এখনো পর্যন্ত কিছুটা কম।
-
সতর্কতা: ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD) দক্ষিণ-পূর্ব, পূর্ব, মধ্য, উত্তর-পূর্ব ও নয়াদিল্লিসহ একাধিক অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়া ও মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা এবং রেড/অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে।
জনজীবন ও প্রশাসনের ভূমিকা
টানা বৃষ্টির ফলে মধ্য দিল্লির কনট প্লেস, আইটিও, মথুরা রোড থেকে শুরু করে ছত্তরপুর ও আউটার দিল্লির বেশ কিছু আবাসিক এলাকায় জল ঢুকে পড়েছে। বিভিন্ন রাস্তার আন্ডারপাসগুলো জলে থইথই করায় যানবাহন চলাচল থমকে যায়। তবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিকর গরম থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছেন শহরবাসী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জমা জল দ্রুত নিষ্কাশন করতে নজরদারি চালাচ্ছে স্থানীয় নগর প্রশাসন।


