রাধারমণ দাসকে ইসকনের মিড ডে মিলের দায়িত্ব থেকে সরানোর কারন সামনে এসেছে।
এই ছবিই কি দাস বাবুর ইস্কন থেকে পদ খোয়ানোর অন্যতম কারণ? দীঘার চটির তৈরি জগন্নাথ মন্দিরেও দেখেছি দহরম মহরম চটির সাথে,সম্ভবত এটাই মুল কারণ,এবং শোনা যায় যে মিড ডে মিলে অন্তর্ঘাতের আশংকা ছিলো বলে…..
পশ্চিমবঙ্গের মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পে ডিম নিয়ে বিতর্কের সময় নিরামিষ খাবারের পক্ষে একাধিক দাবি করেছিলেন রাধারমণ দাস। পরে তাঁকে ইস্কন কলকাতার সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। প্রোটিন নিয়ে তাঁর দাবির কতটা তথ্যসমর্থিত, আর অপসারণ নিয়ে কী বলছেন তিনি, জেনে নাও বিস্তারিত।
পশ্চিমবঙ্গের মধ্যাহ্নভোজ প্রকল্পে ডিম বাদ দেওয়া হচ্ছে বলে সামাজিক মাধ্যমে একটি প্রস্তাবিত খাবারের তালিকা ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। সেই সময় ইস্কন কলকাতার তৎকালীন সহ-সভাপতি ও মুখপাত্র রাধারমণ দাস দাবি করেন, এটি ভ্রান্ত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া একটি প্রচার। তাঁর বক্তব্য ছিল, যে খাবারের তালিকাটি ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেটি চূড়ান্ত নয় এবং ইস্কনের পক্ষ থেকেও প্রকাশ করা হয়নি। তিনি আরও জানান, তখনও কোনো চূড়ান্ত খাবারের তালিকায় অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের পিএম পোষণ প্রকল্পের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্ধারিত পুষ্টিমান বজায় রেখে কোন খাবার পরিবেশন করা হবে, সেই সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারই গ্রহণ করে।
এই বিতর্কের মাঝেই রাধারমণ দাস নিরামিষ খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে একাধিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, প্রতি ১০০ গ্রাম ডিমে প্রায় ১৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে। অন্যদিকে প্রতি ১০০ গ্রাম শুকনো সয়া নাগেটে প্রায় ৫২ থেকে ৫৪ গ্রাম প্রোটিন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতি ১০০ গ্রাম পনিরে প্রায় ২২ গ্রাম এবং শুকনো ডালে গড়ে প্রায় ২৫ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বক্তব্য ছিল, নিরামিষ খাবার দিয়েও শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব এবং বেশি প্রোটিন পাওয়ার জন্য আমিষ খাবারই একমাত্র উপায় নয়। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে তিনি রাজস্থান, গুজরাট, হরিয়ানা, মধ্যপ্রদেশ ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের উদাহরণ তুলে ধরে দাবি করেন, নিরামিষভোজী মানুষের সংখ্যা বেশি থাকা এসব রাজ্যেও প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি তিনি কয়েকজন আন্তর্জাতিক স্তরের ক্রীড়াবিদের উদাহরণও দেন।
তবে পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, শুধু প্রতি ১০০ গ্রামে কত গ্রাম প্রোটিন রয়েছে, সেই হিসাবের ভিত্তিতে দুটি খাবারের পুষ্টিগুণের সরাসরি তুলনা করা যায় না। কারণ সয়া নাগেটের ক্ষেত্রে ৫২ থেকে ৫৪ গ্রাম প্রোটিনের হিসাবটি শুকনো অবস্থার জন্য। রান্নার সময় সয়া প্রচুর জল শোষণ করে ওজন বাড়ায়, ফলে প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা সয়ায় প্রোটিনের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অন্যদিকে ডিম সাধারণত যেভাবে খাওয়া হয়, সেই অবস্থাতেই প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ১৩ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। তাই শুকনো সয়া এবং খাওয়ার উপযোগী ডিমকে একই ভিত্তিতে তুলনা করলে বাস্তব পুষ্টিগুণের পূর্ণ চিত্র প্রকাশ পায় না।
আরও পড়ুনঃ এটা ভদ্রলোকেদের আইন নয়; বাংলায় পাস গুন্ডা দমন বিল
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমকে দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চমানের সম্পূর্ণ প্রোটিন হিসেবে ধরা হয়। এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সব অপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের পাশাপাশি ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি এবং কোলিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও থাকে। অন্যদিকে সয়াও সম্পূর্ণ প্রোটিনের অন্যতম সেরা উদ্ভিজ্জ উৎস এবং পরিকল্পিত নিরামিষ খাদ্যতালিকার মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে কোন খাবার বেশি উপযোগী হবে, তা শুধু প্রোটিনের পরিমাণের উপর নির্ভর করে না; প্রোটিনের মান, শরীরে শোষিত হওয়ার ক্ষমতা, অন্যান্য পুষ্টি উপাদান এবং সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে রাধারমণ দাস যে দাবি করেছিলেন, নিরামিষভোজী মানুষের সংখ্যা বেশি থাকা কয়েকটি রাজ্যে প্রোটিন গ্রহণের মাত্রা বেশি, সেই বক্তব্যের পক্ষে প্রকাশ্য জাতীয় পুষ্টি সমীক্ষায় সরাসরি সমর্থন পাওয়া যায়নি।
এদিকে এই বিতর্কের কিছুদিন পরেই ইস্কন রাধারমণ দাসকে কলকাতার সহ-সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেয় এবং তাঁকে সংগঠনের সমস্ত দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি দেওয়া হয়। এর ফলে তিনি বর্তমানে ইস্কনের প্রাক্তন কলকাতা সহ-সভাপতি। তবে এই সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে ইস্কনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে রাধারমণ দাস দাবি করেছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর নির্যাতনের ঘটনায় তাঁর ধারাবাহিক বক্তব্য এবং অবস্থানের জেরেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও তাঁর এই দাবির পক্ষে ইস্কনের তরফে কোনো আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানানো হয়নি।


