সম্ভাজিনগর (মহারাষ্ট্র):
নিট (NEET-UG) প্রশ্নফাঁস বিরোধী আন্দোলন এবং তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নিজেদের বড় সাফল্যে উজ্জীবিত ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। তবে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাতেই যে লড়াই থামছে না, তা স্পষ্ট করে দিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও আন্দোলনের মুখ অভিজিৎ দীপকে। ছাত্রদের ওপর পুলিশি হয়রানি বন্ধ না হলে এবং সমস্ত এফআইআর নিঃশর্তে প্রত্যাহার করা না হলে আগামী দিনে দেশের সরকার পর্যন্ত বদলে দেওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
“ছাত্ররা সন্ত্রাসবাদী নয়”: দীপকের কড়া বার্তা টানা ৩৬ দিনের আন্দোলনের পর মহারাষ্ট্রের সম্ভাজীনগরে নিজের বাড়িতে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেন, আন্দোলন প্রত্যাহার হলেও বিভিন্ন বিজেপিশাসিত রাজ্যে পুলিশ ছাত্রদের বাড়িতে গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে ও গ্রেফতারির হুমকি দিচ্ছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে সিজেপি প্রধান বলেন:
“শিক্ষার্থীরা কোনো সন্ত্রাসবাদী নয়, ওরাই দেশের ভবিষ্যৎ। সরকার যদি এই তরুণ সমাজকে এভাবে ভয় দেখাতে থাকে, তবে মনে রাখবেন—আজ আমরা কেবল একজন মন্ত্রীর ইস্তফা আদায় করেছি, কাল এই ছাত্ররাই গোটা সরকার বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।”
আরও পড়ুনঃ বিজেপিতে যোগদান করছেন অভিজিৎ!
দিল্লি সরকারের শর্ত ও CJP-র আপত্তি: সাম্প্রতিক এক ঘোষণায় দিল্লি সরকার ও প্রশাসন জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের ২৮ জুলাইয়ের নির্দেশিকা মেনে আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না। তবে যাঁদের অপরাধমূলক অতীত (Criminal background) রয়েছে কিংবা আন্দোলনের সময় হিংসাত্মক ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিল্লি সরকারের এই ‘শর্তসাপেক্ষ’ ঘোষণায় তীব্র আপত্তি জানিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সিজেপির আশঙ্কা, ‘অপরাধমূলক অতীত’ বা ‘হিংসা’র দোহাই দিয়ে পুলিশ মূল আন্দোলনকারীদের চিহ্নিত করে আইনি জালে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। তাই আন্দোলন চলাকালীন দায়ের হওয়া সমস্ত এফআইআর নিঃশর্তভাবে প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছে তারা।
পুনরায় বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি: শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগকে আন্দোলনের প্রথম ধাপের সাফল্য হিসেবে দেখলেও, শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কার ও পুলিশি নজরদারি বন্ধ না হলে ক্ষুব্ধ ছাত্র সমাজ যে আবারও দিল্লির রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। ফলে শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরও প্রশ্নফাঁস কাণ্ডকে কেন্দ্র করে ছাত্র আন্দোলনের উত্তাপ কমছে না বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।


