বিশেষ সংবাদ প্রতিনিধি, কলকাতা:
বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে আগামী রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) কলকাতার অভিজাত হোটেল ‘তাজ বেঙ্গল’-এ এক হাই-প্রোফাইল ‘ইনভেস্টরস মিট’ (Investors Meet)-এর আয়োজন করতে চলেছে রাজ্য পর্যটন দপ্তর। ‘ফ্রম ইনটেন্ট টু ইনভেস্টমেন্ট’ (From Intent to Investment) থিমকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মেগা সম্মেলনে দেশ-বিদেশের শীর্ষস্থানীয় পর্যটন, হসপিটালিটি ও অবকাঠামো বিনিয়োগকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। শুক্রবার নিউ সেক্রেটারিয়েট বিল্ডিংয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
রাজ্যে পর্যটন ক্ষেত্রকে পাখির চোখ করে এত বড় পরিসরে বিনিয়োগকারী সম্মেলন এই প্রথম। এই সম্মেলনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান পর্যটন ও বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হবে।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র ও প্রধান ঘোষণা
সম্মেলন থেকে হোটেল, রিসর্ট এবং হেরিটেজ ট্যুরিজমসহ একাধিক ক্ষেত্রে বড়সড় আর্থিক বিনিয়োগের ঘোষণা আসতে পারে।
-
বিনিয়োগের ক্ষেত্রসমূহ: প্রিমিয়াম ও বিজনেস হোটেল ব্র্যান্ড, উত্তরবঙ্গের চা-পর্যটন (Tea Tourism), লাক্সারি রিসর্ট, হেরিটেজ প্রোপার্টি, ওয়েলনেস এবং লেজার ট্যুরিজম।
-
নতুন ডিজিটাল ডিজিটাল উদ্যোগ: সম্মেলনে রাজ্য পর্যটন দপ্তরের সম্পূর্ণ নতুন আধুনিক ওয়েবসাইট এবং ভ্রমণকারীদের সুবিধার্থে একটি সমন্বিত (Integrated) ট্যুরিজম মোবাইল অ্যাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও দপ্তরের বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান
রাজ্যে পর্যটন পরিকাঠামোর আধুনিকীকরণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে:
| প্রকল্পের নাম | মূল উদ্দেশ্য ও কৌশল |
| ১০৮টি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট | রাজ্যের মন্দির ও ঐতিহাসিক তীর্থস্থানগুলিকে যুক্ত করে ১০৮টি ধর্মীয় সার্কিট তৈরি হচ্ছে, যার আওতায় আসবে ৪০০-র বেশি ধর্মীয় কেন্দ্র। |
| সংশোধিত হোমস্টে নীতি | ২০২২ সালের নীতিকে যুগোপযোগী করে সহজতর করা হচ্ছে। মহিলা পরিচালিত ও আদিবাসী হোমস্টেগুলিকে বিশেষ ছাড় ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। |
| পরিকাঠামো ও সৌন্দর্যবর্ধন | ঐতিহাসিক স্থান সংরক্ষণ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি এবং স্থানীয় স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও মানুষদের যুক্ত করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি। |
আরও পড়ুনঃ বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে নতুন নিম্নচাপ! পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশে আবহাওয়া পরিবর্তনের পূর্বাভাস
কী বললেন পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ?
সংবাদ সম্মেলনে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন:
“বিশ্ব পর্যটন দিবসকে সামনে রেখে আমরা পর্যটন দপ্তরের স্পষ্ট ভিশন সামনে রেখেছি। আমাদের মূল লক্ষ্য—পর্যটনের মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে বিপুল বিনিয়োগ টানা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ২৭ সেপ্টেম্বরের সম্মেলনে রাজ্য ও রাজ্যের বাইরের প্রথম সারির লগ্নিকারীরা উপস্থিত থাকবেন। এর আগে রাজ্যে পর্যটন কেন্দ্রিক এই মাপের ইনভেস্টরস মিট হয়নি। এই সম্মেলনের মাধ্যমে যে বিনিয়োগ আসবে, তাতে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে, তেমনই রাজ্যজুড়ে বড় আকারের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”
রাজ্য সরকার ও বেসরকারি শিল্পপতিদের এই যৌথ উদ্যোগ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন শিল্পে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


