বিশেষ রাজ্য ও পুণ্যভূমি সংক্রান্ত সংবাদ প্রতিবেদন:
মহাপীঠ তারাপীঠে মা তারার দর্শনে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের জন্য এবার কড়া পদক্ষেপ নিল মন্দির পরিচালনা কমিটি। বীরভূমের এই ঐতিহ্যবাহী তীর্থক্ষেত্রের পবিত্রতা, মর্যাদা ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পোশাকবিধি (Dress Code) কঠোরভাবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—হাফপ্যান্ট, বারমুডা, লুঙ্গি কিংবা গামছা পরে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করা যাবে না। শুধু সাধক বা পুণ্যার্থীরাই নন, মন্দিরের সহযোগী সেবায়েতদের জন্যও কার্যকর করা হচ্ছে নির্দিষ্ট রঙের পোশাকবিধি।
১. দর্শনার্থীদের জন্য নতুন নিয়ম ও সচেতনতা প্রচার
-
পোশাকের নিয়মাবলী: মন্দিরে প্রবেশের ক্ষেত্রে শালীন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। যেকোনো ধরনের অশালীন বা ক্যাজুয়াল পোশাক (যেমন—লুঙ্গি, বারমুডা, শর্টস) পরে গর্ভগৃহ বা মন্দির চত্বরে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকছে।
-
সচেতনতামূলক বোর্ড: পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, এই নিয়ম পূর্বে কাগজে-কলমে থাকলেও এতদিন কড়াকড়ি করা হয়নি। এবার দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে আসা ভক্তরা যাতে আগে থেকে নিয়মটি জানতে পারেন, তার জন্য মন্দির চত্বরের বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতামূলক ফ্লেক্স ও নির্দেশিকা বোর্ড টাঙানো হবে।
২. সেবায়েতদের পরিচয় ও শৃঙ্খলায় বিশেষ বদল
মন্দিরের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা এবং পরিষেবায় স্বচ্ছতা ফেরাতে সেবায়েতদের পোশাকেও বড়সড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে:
-
নির্দিষ্ট পোশাক ও পরিচয়পত্র: কালীপুজোর পর থেকেই সহযোগী সেবায়েতদের জন্য নির্দিষ্ট রঙের আলাদা পোশাক দেওয়া হবে। বর্তমানে তাঁদের পরিচয়পত্র যাচাই এবং প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে।
-
মূল পুরোহিত ও সেবায়েত পৃথকীকরণ: মন্দিরের মূল পুরোহিতরা পূর্বের ন্যায় ঐতিহ্যবাহী লাল পোশাতেই থাকবেন। এর ফলে সাধারণ ভক্তরা সহজেই মূল পুরোহিত ও সহযোগী সেবায়েতদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারবেন এবং বিভ্রান্তি বা দালালি এড়ানো সম্ভব হবে।
আরও পড়ুনঃ বাঙালির পাতে কি পেত্নি কম পড়িতেছে? পুরুষ ভূতেদের দাপটে প্রেতিনীরা ইদানীং বড্ড বেশী কোণঠাষা
৩. মন্দির কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
তারাপীঠ মন্দির কমিটির সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, তারাপীঠ কোনো নিছক পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি এক পরম পবিত্র শক্তিপীঠ ও তীর্থভূমি। মন্দিরের ভাবমূর্তি ও প্রাচীন ঐতিহ্য বজায় রাখতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতেই সর্বসম্মতিক্রমে কালীপুজোর পরপরই এই নিয়মাবলী পুরোদমে কার্যকর করা হবে।
পরিচালনা কমিটির এই কঠোর পদক্ষেপে পুণ্যার্থী ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষের সিংহভাগই সমর্থন জানিয়েছেন।


