তোলাবাজি-সহ একগুচ্ছ অভিযোগে প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহকে গ্রেফতার করা হল। সূত্রের খবর, আজ কলকাতার ফুলবাগানের ফ্ল্যাট থেকে দিনহাটার প্রাক্তন বিধায়ককে গ্রেফতার করেছে কোচবিহার থানার পুলিশ। তাঁকে ফুলবাগান থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তারপর পেশ করা হবে আদালতে। সেখান থেকে তাঁকে ট্রানজিট রিমান্ডে কোচবিহারে নিয়ে যাওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। যদিও গ্রেফতারির সময় প্রাক্তন মন্ত্রী দাবি করেন, কী কারণে পাকড়াও করা হয়েছে তাঁকে, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না। তাঁর কথায়, ‘কিচ্ছু বলব না। আমি জানিই না যে কেন গ্রেফতার করেছে।’
আরও পড়ুনঃ কলকাতায় বড় অ্যাকশন! ফুলবাগানের বাড়ি থেকে গ্রেফতার প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ
সরকারি হাসপাতালের জন্য টাকা তুলেছিলেন উদয়ন?
তবে সূত্রের খবর, সরকারি হাসপাতালে শিশু ইউনিটের জন্য উদয়ন বাজার থেকে কোটি-কোটি টাকা তুলেছিলেন বলে অভিযোগ জমা পড়েছিল। সংবাদমাধ্যম টিভি নাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগকারী রূপম সাহা বলেছেন যে এটা হওয়ারই ছিল। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময় সরকারি হাসপাতালে শিশুমঙ্গল সমিতির নামে কোটি-কোটি টাকা তুলেছিলেন। কমপক্ষে ২০-২৫ কোটি টাকা তুলেছিলেন। কিন্তু ৪০-৪৫ লাখ টাকার কাজও করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ওই ব্যক্তি।
তাঁর উপরে হামলার ঘটনায় উদয়নের দিকে আঙুল তুলেছিলেন শুভেন্দু
এমনিতে উদয়নের নামে প্রচুর অভিযোগ আছে। গত বছর অগস্টে তাঁর বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিলেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। পরবর্তীতে তিনি বলেছিলেন, ‘গত ৫ অগস্ট উদয়ন গুহের নির্দেশে কোচবিহারের খাগড়াবাড়ি এলাকায় তাঁর গুন্ডারা আমার গাড়ির ওপর হামলা চালায়। ঘটনাটি রাজ্য সরকার ও পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ঢাকা দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল। পুলিশ কর্তৃক একটি স্বতঃপ্রণোদিত এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল, যেখানে কৌশলে উদয়ন গুহের নাম বাদ দেওয়া হয়। আমি অপরাধীদের এত সহজে পার পেতে দেব না।’
আরও পড়ুনঃ হাওয়ায় উড়ে গেলেন স্ত্রী! ৫টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হল সব্যসাচী দত্তর
আবাসের টাকা তোলারও অভিযোগ উদয়নের বিরুদ্ধে
তাছাড়াও ২০২৪ সালের নভেম্বরে বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছিল, ‘আবাস যোজনা থেকে কাটমানি তোলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। না, এটা শুধু বিরোধীদের দাবি নয়, এবার এমনই দাবি করলেন তৃণমূলেরই রাজবংশী নেতা বংশীবদন বর্মন। শুধু রাজ্যবাসী নয়, জানে সারা দেশবাসী ,তৃণমূল মানেই চোর আর কাটমানি খোর।’


