পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন ২০২৬ বিশ্লেষণ:
২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল প্রায় ২.৩ কোটি (৪০.৬৪%)।
২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে সেই ভোট দাঁড়ায় ২.২৯ কোটি (৩৮.১৫%)।
২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি আবারও প্রায় একই মাত্রায়, ২.৩৪ কোটি ভোট (৩৯.০৮%) ধরে রাখে।
এই তিনটি নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—বিজেপির একটি স্থায়ী ও দৃঢ় ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে, যা প্রায় ২.৩ কোটির আশেপাশে স্থির রয়েছে।
আরও পড়ুনঃ ‘ভোট লুঠের কৌশল’! বাসন্তীতে গোপন ‘খেলা’ চলছে? নির্দলে তৃণমূল নেতা!
এখন আসি ২০২৬-এর প্রেক্ষাপটে।
২০২৪ সালে মোট ভোটার ছিল ৭.৬ কোটি। SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রায় ৯১ লাখ ভোটার বাদ যাওয়ায় ২০২৬ সালে বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৬.৬৯ কোটি।
পশ্চিমবঙ্গে গড় ভোটদান হার প্রায় ৮২%। সেই হিসেবে মোট প্রদত্ত ভোট হবে আনুমানিক ৫.৪৯ কোটি।
এখন যদি বিজেপি তাদের আগের মতোই প্রায় ২.৩ কোটি ভোট ধরে রাখতে পারে, তাহলে তাদের ভোট শতাংশ দাঁড়াবে প্রায় ৪১.৯%—যা ২০২১ সালের তুলনায় স্বাভাবিকভাবেই প্রায় ৪% বেশি, কোনো অতিরিক্ত প্রচেষ্টা ছাড়াই।
এর সাথে যদি মাত্র ৩-৪% পজিটিভ সুইং যোগ হয়, তাহলে বিজেপির ভোটশেয়ার সহজেই ৪৫-৪৬%-এ পৌঁছাতে পারে—যা আসন সংখ্যায় স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিতে পারে।
আরও পড়ুনঃ রাসবিহারীতে উত্তেজনা! IT-র নজরে দেবাশিস কুমার; চলছে ম্যারাথন তল্লাশি
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের ২০২১ সালের প্রায় ৪৮% ভোটের মধ্যে একটি অংশ ছিল তথাকথিত “অদৃশ্য ফ্যাক্টর” (যা অনেকের মতে ভুয়া বা অনিয়মিত ভোট)। SIR-এর পর সেই অংশটি কার্যত শূন্য হয়ে গেলে, একই ভোটার টার্নআউট থাকলেও তৃণমূলের ভোটশেয়ার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে।
এর পাশাপাশি, যদি শহুরে শিক্ষিত ভোটার—বিশেষ করে ‘ভদ্রলোক’ শ্রেণির হিন্দু ভোটাররা—আরও বেশি হারে ভোট দিতে এগিয়ে আসেন, তাহলে সেটি বিজেপির জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করবে। এই প্রেক্ষাপটে কলকাতা ও আশেপাশের অঞ্চলে বিজেপির ফলাফল উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সার্বিকভাবে, এই হিসাব অনুযায়ী বিজেপি প্রায় ১৭০ থেকে ১৭৪টি আসন পেতে পারে।
এটাই বাস্তবতা মনে হচ্ছে। কিছুই করার নেই।



