বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূল বনাম বিজেপির দ্বিমুখী লড়াই যে কার্যত স্থায়ী রূপ নিয়েছে, তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ২০১১-র আগে যে রাজ্যে বাম বনাম কংগ্রেসের দ্বন্দ্ব ছিল রাজনৈতিক নিয়ম, ক্ষমতার পালাবদলের পরে সেই জায়গায় বিরোধী শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে বিজেপি। বিশেষত ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের পর থেকে রাজ্যের রাজনৈতিক ছবি একেবারেই স্পষ্ট। ক্ষমতায় তৃণমূল, প্রধান প্রতিপক্ষ বিজেপি। তবু ভোট এলেই বারবার ফিরে আসে ‘তৃতীয় শক্তি’-র ধারণা। বাম-কংগ্রেস, পরে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ— এই সব পরীক্ষানিরীক্ষার ফলাফল খুব আশাব্যঞ্জক না হলেও আলোচনা থামে না।
আরও পড়ুনঃ আবারও কি ঐতিহাসিক ভুলের পথে সিপিএম! নিউটাউনের হোটেলে সেলিম-হুমায়ুন গোপন বৈঠক
সেই প্রেক্ষিতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে সিপিএম ও হুমায়ুন কবীরের ‘সদ্যোজাত দল’ জনতা উন্নয়ন পার্টির সম্ভাব্য ঘনিষ্ঠতা।
বুধবার রাতে নিউ টাউনের একটি হোটেলে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর। বৈঠকের পর হুমায়ুন প্রকাশ্যে জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে লড়াই করতে আগ্রহী। আইএসএফের সঙ্গে কথাবার্তার দায়িত্ব তিনি সিপিএমের উপরেই ছেড়ে দিতে চান বলেও জানান।
তবে এই বৈঠক নিয়ে সিপিএমের তরফে এখনই কোনও চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট করা হয়নি। সেলিম নিজেও জোটের প্রশ্নে সাবধানী।
সাংবাদিকদের হুমায়ুন কবীর বলেন, তাঁর সঙ্গে মহম্মদ সেলিমের আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে জোটের সম্ভাবনা নিয়েই কথা হয়েছে। আইএসএফ-এর সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি আপাতত সিপিএম দেখুক। কংগ্রেস নিয়ে এখনই তাঁর কোনও বক্তব্য নেই। হাতের উপর ‘হাত’ রাখার মতো অবস্থায় আছে আছে কিনা সেটাও ভাবার বিষয়।
সূত্রের খবর, আলোচনায় আসন সমঝোতা এবং একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার মতো বিষয়ও উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, সেলিমের বক্তব্য, হুমায়ুন বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন। সেই মতোই আজ তাঁর সঙ্গে দেখা করা।
হুমায়ুন নতুন দল করলে তাঁর সঙ্গে যে কথা বলবেন সেটা আগেই জানিয়েছিলেন সেলিম। আজকের বৈঠকে তিনি সেই মতোই হুমায়ুনের ভাবনার কথা শুনেছেন। বাকিটা দলের উপর।
এই বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিপিএমের অন্দরে তৈরি হয়েছে নানাবিধ প্রতিক্রিয়া। বিশেষত উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে দলের সংগঠন নিয়ে নাকি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক নেতা।
অনেকেই মনে করেন, যাঁর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তাঁর সঙ্গে জোট করলে বামেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক ভিত্তি আরও সংকুচিত হতে পারে।





