মার্চের শেষ লগ্নে দেশের আবহাওয়ায় বড়সড় বদলের ইঙ্গিত দিল মৌসম ভবন। একদিকে বজ্র-সহ বৃষ্টি, অন্যদিকে কোথাও কোথাও তাপমাত্রা বৃদ্ধি—দু’য়ের খামখেয়ালিপনায় বদলে যেতে চলেছে ছবিটা।
রাজধানী দিল্লি–সহ উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় আকাশ মেঘলা কদিন ধরে। হালকা বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টির জেরে সেখানে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম, ফলে মার্চেও হালকা শীতের আমেজ টের পাচ্ছেন মানুষ।
আরও পড়ুনঃ ২৬শে মেগা ডুয়েল ভবানীপুর; জয়ের টার্গেট দিলেন সেনাপতি
কলকাতার ছবিটা আরও অবাক করা। পরপর দু’দিনের ঝড়বৃষ্টিতে এক ধাক্কায় শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা নেমেছে ১১ ডিগ্রি! শনিবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৩.২, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ১১ ডিগ্রি কম। রবিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৯.৭, স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৪ ডিগ্রি কম। শুক্রবারও যেখানে পারদ ছুঁয়েছিল ৩০ ডিগ্রি, সেখানে হঠাৎ এই পতনে শহরে ফিরেছে শীতের আমেজ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, দিনভর আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে।
চৈত্রের ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গজুড়ে ঝড়বৃষ্টি হলেও এখন কিছুটা স্বস্তি। রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। দক্ষিণের বাকি জেলাগুলিতেও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে, তবে আলাদা করে কোথাও সতর্কতা নেই। কলকাতায় রবিবার হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, আবার সপ্তাহের শেষে শুক্রবার ও শনিবার ফের বৃষ্টি হতে পারে।
উত্তরবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও সতর্কতা জারি রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ারে বুধবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি ও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা। কোচবিহারে মঙ্গলবার পর্যন্ত ঝড়বৃষ্টি চলতে পারে। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আপাতত কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই, তবে সারা সপ্তাহজুড়েই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলবে।
আরও পড়ুনঃ ‘লোডশেডিং করে দিতে পারে’, ‘CCTV’ লাগিয়ে সতর্কবার্তা নেত্রী
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রা ৩ থেকে ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত কমতে পারে। তার পরের তিন দিনে আবার ধীরে ধীরে ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি বাড়বে পারদ।
এই পরিস্থিতির নেপথ্যে রয়েছে উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ এবং সংলগ্ন দক্ষিণ উত্তরপ্রদেশ–এর উপর তৈরি ঘূর্ণাবর্ত। সেখান থেকে একটি অক্ষরেখা মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ হয়ে নাগাল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত, যা গিয়েছে ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং দক্ষিণ অসম–এর উপর দিয়ে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা প্রায় ০.৯ কিলোমিটার। এর প্রভাবেই বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে, তৈরি হচ্ছে বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ।
সমুদ্রেও রয়েছে অশান্তি। ওড়িশা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগর এখনও উত্তাল থাকায় মৎস্যজীবীদের রবিবার সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, আজ থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।
শনিবার সকাল থেকে সন্ধ্যা—দু’দফায় ভিজেছে কলকাতা ও শহরতলি। হলদিয়ায় ১২.৪ মিলিমিটার, দিঘায় ২১.২ মিলিমিটার, মালদহে ২৩.৮ মিলিমিটার, দার্জিলিংয়ে ১৯.২ মিলিমিটার, জলপাইগুড়িতে ২৩.৮ মিলিমিটার এবং রায়গঞ্জে ২৪.২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে পশ্চিম ভারতের মুম্বইতে গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া বজায় রয়েছে। মার্চে সেখানে তাপমাত্রা সাধারণত ৩০ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে, বৃষ্টির সম্ভাবনা খুবই কম।
পাহাড়েও অস্থির আবহাওয়া। হিমাচল প্রদেশের শিমলায় বৃষ্টি ও হালকা তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে সতর্কতা জারি হয়েছে।



