পূর্বাভাস মিলল। রাতে নামল ঝেঁপে বৃষ্টি। তার সঙ্গে ব্যাপক ঝোড়ো হাওয়া। কোথাও আবার ঘনঘন বাজ পড়ল। রাতভর এই ঝড়-বৃষ্টিতে গরমে কিছুটা হলেও লাগাম হল। আলিপুর আবহাওয়া অফিস বলছে, এই ঝড়-বৃষ্টির দাপট আরও চলবে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কারণে এই বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল এই ঝড় ও বৃষ্টির কারণেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিমান অবতরণ করতে না পেরে, মাঝ আকাশে ৪৫ মিনিট ঘুরপাক খায়। আজও সেই দুর্যোগ থেকে মুক্তি নেই।
আরও পড়ুনঃ রাজ্য জুড়ে ঝড়বৃষ্টি! মমতার পর অমিত শাহের বিমানও চক্কর কাটল কলকাতার আকাশে
শনিবার কলকাতায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে। একই পূর্বাভাস হাওড়া, হুগলি, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। এই জেলাগুলিতে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতেও শনিবার ঝড়বৃষ্টি হতে পারে। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হাওয়ার বেগ থাকবে ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা। শিলাবৃষ্টি হতে পারে উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া এবং হুগলির কোনও কোনও জায়গায়।
শনিবারের পর দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টি বাড়তে পারে মঙ্গলবার। সে দিন সব জেলায় ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া এবং বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। সমুদ্রে মাঝেমধ্যেই ঝোড়ো হাওয়া বইছে। দমকা হাওয়ার বেগ পৌঁছে যাচ্ছে ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটারেও। শনিবার পর্যন্ত তাই উত্তর ওড়িশা এবং সংলগ্ন পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে মৎস্যজীবীদের না-যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ঝড়বৃষ্টির কারণে দক্ষিণবঙ্গে আগামী দু’দিনে দিনের তাপমাত্রা দুই থেকে চার ডিগ্রি কমবে। তার পর ধীরে ধীরে বাড়বে তিন থেকে পাঁচ ডিগ্রি পর্যন্ত।
শনিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ঝড়বৃষ্টি চলবে উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারের কিছু অংশে বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বর্ষণ (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) হতে পারে। বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার বেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার। আপাতত দু’দিন তাপমাত্রা কিছুটা কমে ফের উত্তরবঙ্গের পারদও ঊর্ধ্বমুখী হবে।
আরও পড়ুনঃ BFA স্বপ্ন গড়ার কারখানা নাকি শুধুই ব্যবসার ফাঁদ?
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তার উচ্চতা ০.৯ কিলোমিটার। এ ছাড়া, উত্তর-পশ্চিম বিহার থেকে মণিপুর পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। তা ঘূর্ণাবর্তের উপর দিয়ে গিয়েছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প ঢুকছে স্থলভাগে। তাই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শনিবার সকালে কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৪ ডিগ্রি কম। শুক্রবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।



