ক্যালেন্ডারের পাতায় সবে বৈশাখ দানা বাঁধছে, কিন্তু বাংলার আবহাওয়া যেন জ্যৈষ্ঠের চরম দাবহকেও হার মানিয়েছে। এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ জেলাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দপ্তর (IMD) এবং জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, ২০২৬ সালের এই গরম শুধুমাত্র সাময়িক কষ্ট নয়, বরং গত কয়েক দশকের রেকর্ড ওলটপালট করে দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ ‘মমতাদির খেলা শেষ…’, ‘তৃণমূলের গুন্ডারা শুনুন, ২৯ তারিখ বাড়ির বাইরে বেরোবেন না’; বঙ্গে শাহি হুঙ্কার
কেন এই বছরটি আলাদা?
আবহাওয়াবিদদের মতে, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ এবারের গরমকে ভয়ংকর করে তুলেছে। বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি এল নিনোর দাপটে এবার প্রাক-বর্ষার বৃষ্টি বা কালবৈশাখীর দেখা মিলছে না বললেই চলে। মেঘমুক্ত আকাশ থাকায় সরাসরি সৌর বিকিরণ ভূপৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে তুলছে।
বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরে উচ্চচাপ বলয় তৈরি হওয়ায় গরম বাতাস আটকে থাকছে সমতলে, যার ফলে বীরভূম, বাঁকুড়া এবং দুই বর্ধমান জ্বলছে আগুনের আঁচে। ইতিমধ্যেই পানাগড় এবং পশ্চিম বর্ধমানের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৩-৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। গত ১০০ বছরের ইতিহাসে এপ্রিল মাসে এমন টানা উচ্চ তাপমাত্রা খুব কমই দেখা গেছে।
রেকর্ড ভাঙার সমীকরণ
গত বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালেও কলাইকুণ্ডায় তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি ছাড়িয়েছিল। তবে ২০২৬-এর উদ্বেগের কারণ হলো গরমের স্থায়িত্ব এবং আর্দ্রতা। আগে তাপপ্রবাহ আসত এবং কালবৈশাখীর পর তাপমাত্রা কমত। কিন্তু এবার তাপমাত্রা একবার বাড়লে তা নামার লক্ষণ নেই। মে মাস আসার আগেই যদি পারদ ৪৪ ডিগ্রি ছোঁয়, তবে মে-জুন মাসে এটি ৪৮ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব নয়,” জানিয়েছেন এক আবহাওয়াবিদ।
তীব্র এই গরমে জীবনযাত্রা কার্যত স্তব্ধ হওয়ার জোগাড়। শুধু গরম নয়, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে আর্দ্রতা। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ঘাম শুকোতে দেরি হওয়ায় শরীরে ‘হিট ইনডেক্স’ বা প্রকৃত অনুভূত তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে। এর ফলে হিটস্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন এবং পেশির খিঁচুনি হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুনঃ বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ‘টিম মোদী’-র মাস্টারস্ট্রোক
কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা?
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মে মাসে বঙ্গোপসাগরে কোনো বড় নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় তৈরি না হলে এই দাবদাহ থেকে মুক্তি পাওয়া কঠিন। ২০২৬ সাল বাংলার ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণতম বছর হিসেবে নথিভুক্ত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত সরাসরি রোদে না বেরোতে। প্রচুর জল, ওআরএস (ORS) এবং দেশি ফলের রস পান করাই এখন সুস্থ থাকার একমাত্র চাবিকাঠি।



