২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বুধবার। কিন্তু ভোট মিটলেও এখনই রাজ্য থেকে সরছে না কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচন কমিশন এবং সিআরপিএফ-এর পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রাজ্যে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য হিংসা রুখতে আপাতত ৫০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF) পশ্চিমবঙ্গেই মোতায়েন থাকবে। বুধবার সিআরপিএফ-এর মহানির্দেশক (DG) জি পি সিং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সমস্ত ফোর্স কমান্ডারদের ইতিমধ্যেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এই ৫০০ কোম্পানি বাহিনী যেন নিজ নিজ অবস্থানেই থাকে।
আরও পড়ুনঃ ৭৭ EVM টেম্পারিং! ২ মে’র আগেই পুনর্নির্বাচনের ইঙ্গিত কমিশনের
কমিশন সূত্রে খবর, গত ১৯ মার্চ যে মোতায়েন পরিকল্পনা করা হয়েছিল, সেখানে আগে থেকেই এই বিষয়টি স্পষ্ট ছিল। ভোট মিটলেও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যে কোনও রকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এই বাহিনীকে ব্যবহার করা হবে। বুধবার রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে বিধানসভার ২৯৪টি আসনেই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এখন গণনার আগের সময়টুকু এবং তার পরবর্তী দিনগুলোতে নিরাপত্তায় কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না জাতীয় নির্বাচন কমিশন।
আরপ পড়ুনঃ ছাপ্পা, রক্তপাতহীন, মৃত্যুহীন ২০২৬ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের অনন্য নায়ক
এই ৫০০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে কোন বাহিনীর কত সদস্য থাকছেন, তার একটি বিস্তারিত খতিয়ানও প্রকাশ করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই তালিকায় সবচেয়ে বেশি রয়েছে সিআরপিএফ (CRPF), যাদের ২০০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে থেকে যাচ্ছে। এর পাশাপাশি সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বা বিএসএফ-এর (BSF) ১৫০ কোম্পানি, কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী বা সিআইএসএফ-এর (CISF) ৫০ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এছাড়াও ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ (ITBP) এবং সশস্ত্র সীমা বল (SSB)-এর ৫০ কোম্পানি করে বাহিনীকেও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত স্ট্রং রুমের নিরাপত্তা এবং স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ জারি রাখাই হবে এই বাহিনীর প্রাথমিক লক্ষ্য।


